মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে—এমন আশায় নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। শক্তিশালী করপোরেট আয়, প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি এবং বন্ড বাজারে স্বস্তির প্রভাব মিলিয়ে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে বড় উত্থান দেখা গেছে। এর মধ্যেই ইতিহাস গড়েছে ডাও জোন্স সূচক, যা নতুন রেকর্ড উচ্চতায় দিন শেষ করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বড় বড় কোম্পানির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় বাজারে আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
ডাও জোন্সের নতুন রেকর্ড
দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ২৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫০ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ সমাপনী অবস্থান। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও বাড়ে এবং টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো ইতিবাচক ধারায় থাকে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচকও দিনের লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, শিল্প এবং ইউটিলিটি খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে। তবে যোগাযোগ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কিছু কোম্পানির শেয়ারে চাপ দেখা যায়।

প্রযুক্তি খাতে বড় উত্থান
চীনের কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেনোভোর শক্তিশালী আয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। বিশেষ করে কম্পিউটার নির্মাতা ডেল ও এইচপির শেয়ারে বড় লাফ দেখা গেছে। ডেলের শেয়ার একদিনেই প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। এইচপির শেয়ারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। কোয়ালকমের শেয়ার বড় উত্থান দেখালেও এনভিডিয়ার শেয়ার কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের আশার কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে ঘিরে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে বাজার ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, উত্তেজনা কমলে জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ কমতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এতদিন বাজারের জন্য বড় বাধা হয়ে ছিল। এখন আলোচনার ইতিবাচক সংকেত শেয়ারবাজারে নতুন গতি এনে দিয়েছে।
বন্ড বাজারেও স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহারও কিছুটা কমেছে। এতে বাজারে চাপ কমেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সুদহার দ্রুত বাড়লেও শেষদিকে তা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
এদিকে নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার হিসেবে কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নিয়েছেন। এমন সময়ে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
করপোরেট দুনিয়ায় ইতিবাচক বার্তা
প্রসাধনী নির্মাতা এস্টি লডারের শেয়ারও বড় উত্থান দেখেছে। সম্ভাব্য একীভূতকরণ আলোচনা বন্ধ হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে যায়। একইভাবে মানবসম্পদ সফটওয়্যার নির্মাতা ওয়ার্কডেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় প্রকাশের পর শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসে।
সব মিলিয়ে ওয়াল স্ট্রিটে এখন আশাবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। করপোরেট আয়, প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী অবস্থান এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা—এই তিন শক্তিই বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















