০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
পরকীয়ার জেরে সাতক্ষীরায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ‘মব’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের কঙ্গোতে ইবোলার ঝুঁকি ‘খুবই উচ্চ’, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল দুইজনের দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিস্তার, কেপটাউনে চালু হলো অনারারি কনস্যুলেট কোরবানির হাটে চাঁদপুরের ৬৬ হাজার পশু, ন্যায্য দামের আশায় খামারিরা ভারত থেকে পাকিস্তানে ছড়াল ‘তেলাপোকা জনতা’ আন্দোলন, সামাজিক মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ঝড় এভারেস্টে প্রাণ গেল দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর, ভিড় নিয়ে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানে তুলা সংকট তীব্র, আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ১২০ কোটি ডলার পাকিস্তানে সাপ্তাহিক মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, চাপে সাধারণ মানুষ

স্পেসএক্সের নতুন স্টারশিপ উড্ডয়ন সফল, মহাকাশ ব্যবসায় নতুন দৌড়ে ইলন মাস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন সংস্করণের স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণ হওয়া এই মহাকাশযান পরীক্ষার বেশিরভাগ লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং মহাকাশভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণে এটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন সংস্করণের স্টারশিপ নিয়ে এই উৎক্ষেপণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল পরীক্ষা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন স্টারশিপে বড় পরিবর্তন

স্পেসএক্সের এই নতুন সংস্করণ আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন। রকেটের নিচের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে নতুন ধরনের র‌্যাপ্টর ইঞ্জিন, যা কম ওজনেও বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

SpaceX launches its biggest Starship yet on a test flight : NPR

উপরের অংশের মহাকাশযানটিকেও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে মহাকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা, অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রযুক্তি এবং উন্নত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে কী ঘটেছে

টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পর রকেটের দুই অংশ সফলভাবে আলাদা হয়ে যায়। এরপর স্টারশিপ মহাকাশের নির্ধারিত পথে এগিয়ে যায়।

যাত্রাপথে একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলেও মহাকাশযানটি তার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষার অংশ হিসেবে এটি একাধিক কৃত্রিম স্যাটেলাইট মহাকাশে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে তাপ প্রতিরোধী আবরণ পরীক্ষার জন্য বিশেষ সেন্সরও ব্যবহার করা হয়।

ইলন মাস্কঃ মানবিক পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা – বিজ্ঞানযাত্রা

পরে মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। শেষ মুহূর্তে এটি বিস্ফোরিত হলেও সেটিকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হয়েছে।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় নিরাপদ অবতরণ বা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়নি। মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা।

বিনিয়োগকারীদের নজরে স্পেসএক্স

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি হিসেবে স্পেসএক্স ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে এলে সেটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক শেয়ার ছাড়ার ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারশিপ প্রকল্প সফল হলে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসা, মহাকাশ গবেষণা এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক প্রকল্প আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

SpaceX IPO filing lays bare losses and Musk control as it stakes future on  AI - The Japan Times

চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের লক্ষ্য

স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদ ও মঙ্গলে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থার চন্দ্র কর্মসূচির অংশ হিসেবেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক দশক পর আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে মহাকাশে জ্বালানি ভরার মতো জটিল প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়। ফলে সামনে আরও অনেক পরীক্ষা ও উন্নয়নের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পরকীয়ার জেরে সাতক্ষীরায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ

স্পেসএক্সের নতুন স্টারশিপ উড্ডয়ন সফল, মহাকাশ ব্যবসায় নতুন দৌড়ে ইলন মাস্ক

১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন সংস্করণের স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণ হওয়া এই মহাকাশযান পরীক্ষার বেশিরভাগ লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং মহাকাশভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণে এটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন সংস্করণের স্টারশিপ নিয়ে এই উৎক্ষেপণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল পরীক্ষা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন স্টারশিপে বড় পরিবর্তন

স্পেসএক্সের এই নতুন সংস্করণ আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন। রকেটের নিচের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে নতুন ধরনের র‌্যাপ্টর ইঞ্জিন, যা কম ওজনেও বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

SpaceX launches its biggest Starship yet on a test flight : NPR

উপরের অংশের মহাকাশযানটিকেও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে মহাকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা, অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রযুক্তি এবং উন্নত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে কী ঘটেছে

টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পর রকেটের দুই অংশ সফলভাবে আলাদা হয়ে যায়। এরপর স্টারশিপ মহাকাশের নির্ধারিত পথে এগিয়ে যায়।

যাত্রাপথে একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলেও মহাকাশযানটি তার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষার অংশ হিসেবে এটি একাধিক কৃত্রিম স্যাটেলাইট মহাকাশে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে তাপ প্রতিরোধী আবরণ পরীক্ষার জন্য বিশেষ সেন্সরও ব্যবহার করা হয়।

ইলন মাস্কঃ মানবিক পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা – বিজ্ঞানযাত্রা

পরে মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। শেষ মুহূর্তে এটি বিস্ফোরিত হলেও সেটিকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হয়েছে।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় নিরাপদ অবতরণ বা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়নি। মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা।

বিনিয়োগকারীদের নজরে স্পেসএক্স

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি হিসেবে স্পেসএক্স ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে এলে সেটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক শেয়ার ছাড়ার ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারশিপ প্রকল্প সফল হলে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসা, মহাকাশ গবেষণা এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক প্রকল্প আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

SpaceX IPO filing lays bare losses and Musk control as it stakes future on  AI - The Japan Times

চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের লক্ষ্য

স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদ ও মঙ্গলে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থার চন্দ্র কর্মসূচির অংশ হিসেবেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক দশক পর আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে মহাকাশে জ্বালানি ভরার মতো জটিল প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়। ফলে সামনে আরও অনেক পরীক্ষা ও উন্নয়নের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।