ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সম্প্রতি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, ওয়াশিংটন এখনো ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং হঠাৎ করে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রুবিও স্বীকার করেন, মার্কিন অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
ইউরোপে দীর্ঘদিনের মার্কিন উপস্থিতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ইউরোপে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব মোকাবিলার জন্য এই উপস্থিতি গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে তা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমে যেতে পারে— এমন আশঙ্কা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেখানে সক্রিয় দায়িত্বে আছেন ৩৬ হাজারের বেশি সেনা সদস্য। এছাড়া ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার, যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার এবং পোল্যান্ডেও প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার ন্যাটো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছে না এবং অতিরিক্ত চাপ যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হচ্ছে।
এই চাপের মুখে ন্যাটোভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ন্যাটোর কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব বেড়েছে। রুবিওর সফরকে সেই উদ্বেগ কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















