সংবিধান সংস্কার নিয়ে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত যোগ দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএনপি। রোববার সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। সারাক্ষণ রিপোর্ট
নুরুল ইসলাম বলেন, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হবে এবং তারা অবশ্যই বিশেষ কমিটিতে যোগ দেবে। দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান।
তার ভাষায়, সংসদে বহুবার দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারছেন যে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। সংলাপের মাধ্যমেই অচলাবস্থার অবসান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী সংসদে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। সেই কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল নাম জমা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধী দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় প্রক্রিয়া বুঝতে এবং মানিয়ে নিতে তাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাই এই বিলম্বকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা উচিত।
সংবিধান সংশোধন অনিবার্য
সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে এর আগেও বহুবার সংশোধনী আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া চলবে।
তিনি বলেন, সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সংশোধন হলেও বাকি অংশ বহাল থাকবে। তাই সংশোধনকে অস্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়েই সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধিত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান বা স্বাধীনতার মতো বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া বিশ্বের কোথাও পুরো সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের নজির নেই। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সংবিধান বহুবার সংশোধিত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও ইতোমধ্যে ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।

‘দেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ’
বর্তমান সংসদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংসদকে জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো আরও পর্যালোচনা ও শক্তিশালী করে পুনরায় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। যেগুলো চলতি বাজেট অধিবেশনেই আনা সম্ভব হবে, সেগুলো এখনই উত্থাপন করা হবে। বাকিগুলো পরবর্তী অধিবেশনে তোলা হবে।

সংসদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ হিসেবে সংসদ ভবনকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার কথাও জানান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদ ভবনের ছাদে ইতোমধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি ভবনগুলোতেও সৌর প্যানেল বসানো হবে।
তিনি আরও জানান, সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে। এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে নতুন সিস্টেম অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকেও সম্পৃক্ত করা হবে।
নিরাপত্তার কারণে সংসদ অধিবেশন চলাকালে দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তার মতে, অনেক সময় সংসদ এলাকা অতিরিক্ত ভিড়ে অগোছালো হয়ে পড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















