ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইসরাইল—এমন আশঙ্কাই এখন জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও ইসরাইল শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফোনালাপকে ঘিরে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। সেখানে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে অনড় অবস্থান
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরানের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিক। তবে এখন পর্যন্ত ইরান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ছাড় দেয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান প্রাথমিক আলোচনার অংশ নয়। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। এতে করে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ এড়াতে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অপেক্ষা।
লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে লেবাননের পরিস্থিতিও জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত বন্ধের বিষয় থাকতে পারে। সেখানে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ফলে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক তৎপরতা সীমিত করতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল শুরু থেকেই ইরানবিরোধী কঠোর নীতিতে অটল। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে তারা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তির পথে এগোতে চায় বলে জানা গেছে। প্রথমে একটি কাঠামোগত সমঝোতা এবং পরে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের।
তবে ইসরাইলি নিরাপত্তা মহলের আশঙ্কা, সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে ইরান। তাদের ধারণা, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর তেহরান হয়তো আর ছাড় দিতে রাজি হবে না। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সম্ভাব্য সমঝোতা এখন বড় কূটনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















