০১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়,  ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা তিনি বলেছেন, দুই পক্ষ নীতিগতভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি। তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি বলেও সতর্ক করেছেন ওই কর্মকর্তা।

কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আলোচনায় এমন কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ ছিল। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে কিছুটা নরম সুর দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা কমানো এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে বাস্তব চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। অতীতে এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা সফল হলে এই রুটে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতার বার্তাও যেতে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন অগ্রগতি

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরান এ ধরনের ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সীমা বা আন্তর্জাতিক তদারকি নিয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

Unresolved disputes could derail potential US-Iran understanding: Iranian  media

চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়

মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সবকিছু নির্ভর করছে পরবর্তী কয়েকদিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়,  ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে

১১:২৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা তিনি বলেছেন, দুই পক্ষ নীতিগতভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি। তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি বলেও সতর্ক করেছেন ওই কর্মকর্তা।

কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আলোচনায় এমন কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ ছিল। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে কিছুটা নরম সুর দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা কমানো এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে বাস্তব চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। অতীতে এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা সফল হলে এই রুটে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতার বার্তাও যেতে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন অগ্রগতি

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরান এ ধরনের ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সীমা বা আন্তর্জাতিক তদারকি নিয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

Unresolved disputes could derail potential US-Iran understanding: Iranian  media

চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়

মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সবকিছু নির্ভর করছে পরবর্তী কয়েকদিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।