খুলনা বিভাগের সাত জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে দলটির ভেতরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। খুলনায় একটি তারকা মানের হোটেলের বিলাসবহুল স্যুটে পদপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে নেতৃত্ব বাছাইয়ের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে খুলনায় যান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা নগরীর সিটি ইন হোটেলে অবস্থান করেন। পরদিন শনিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম।
দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষাৎকার
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক সাক্ষাৎকার বোর্ডে ছিলেন। শনিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত চলে সাক্ষাৎকার। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা হোটেল ত্যাগ করেন।
মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর ছাড়া খুলনা বিভাগের সাতটি জেলা এবং খুলনা মহানগরের শীর্ষ দুটি পদে আগ্রহী শতাধিক নেতা সাক্ষাৎকার দেন। তবে একটি বিলাসবহুল স্যুটে এত মানুষের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় হোটেল ব্যবহারের বিষয়টি অনেকের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। হোটেলের অন্যান্য অতিথিরাও এতে বিব্রত হন বলে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টির সাবেক নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ছিলেন খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মুশফিকুর রহমান এবং সদস্য সচিব শওকত হোসেন বাবুল। তাদের উপস্থিতি নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদল দিয়ে শুরু করা মুশফিকুর রহমান ২০০৮ সালে বাগেরহাট-১ আসনে নির্বাচন করেন। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি স্বল্প ভোট পেয়ে জামানত হারান। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর ২০২৩ সালের কেসিসি নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি তিনি অনেক আগেই ছেড়েছেন। বর্তমানে তরুণদের নিয়ে রাজনীতি করতে চান এবং সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এনসিপির নেতৃত্বে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূলের হতাশা
দলটির সাবেক জেলা সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল কেন্দ্রীয় নেতারা উন্মুক্ত পরিবেশে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সীমিত পরিসরে হোটেলের কক্ষে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তৃণমূলের অনেকেই হতাশ হয়েছেন।
তার ভাষ্য, তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মতামত সরাসরি নেওয়া হলে সাংগঠনিক প্রক্রিয়াটি আরও গ্রহণযোগ্য হতো।
এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। দলটির নেতা ফরিদুল হক বলেন, এটি কোনো উন্মুক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার প্রয়োজন ছিল বলেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খুলনায় দলীয় অফিস না থাকায় বিকল্প হিসেবে হোটেল ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আয়োজনের জন্য তুলনামূলক কম খরচের হোটেলই বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিভাগীয় কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠনের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব আয়োজনের বৈপরীত্য নিয়েই এখন বেশি প্রশ্ন উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















