০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩ সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটন পোস্ট: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ২ বছরের মেয়ের কলারবোন ভাঙার রহস্য অমীমাংসিত ভারত থেকে রপ্তানি বাড়াবে জাপানের কুবোটা, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দামে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কালিমান্তানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টি না এলে বাড়তে পারে আগুন-ধোঁয়ার সংকট ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা আসাম–মেঘালয় উত্তেজনা: হামলায় জড়িত ৫ মুখোশধারী শনাক্ত, গঠিত বিশেষ তদন্ত দল

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার পর তীব্র যানজট, ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরপর দুটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগরের দোগাছি এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে এক ট্রাকচালক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরাতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

দুর্ঘটনা সরানোর মধ্যেই আরেক বিপত্তি

প্রথম দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় অন্তত তিন জন আহত হন। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, প্রথম দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক সরানোর কাজ চলাকালীনই দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা ছাড়িয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সকাল থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি

মাওয়া হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল হায়দার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে।

মাওয়া প্রান্তে বিশেষ ব্যবস্থা

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ৮টি বুথে নিরবচ্ছিন্নভাবে টোল আদায় চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে আলাদা দুটি বিশেষ লেন চালু রাখা হয়েছে।

তবুও দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট যানজট ও যানবাহনের বাড়তি চাপ মিলিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্থবিরতা তৈরি হয়। এতে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরা হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার পর তীব্র যানজট, ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

০৬:১২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরপর দুটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগরের দোগাছি এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে এক ট্রাকচালক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরাতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

দুর্ঘটনা সরানোর মধ্যেই আরেক বিপত্তি

প্রথম দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় অন্তত তিন জন আহত হন। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, প্রথম দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক সরানোর কাজ চলাকালীনই দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা ছাড়িয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সকাল থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি

মাওয়া হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল হায়দার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে।

মাওয়া প্রান্তে বিশেষ ব্যবস্থা

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ৮টি বুথে নিরবচ্ছিন্নভাবে টোল আদায় চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে আলাদা দুটি বিশেষ লেন চালু রাখা হয়েছে।

তবুও দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট যানজট ও যানবাহনের বাড়তি চাপ মিলিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্থবিরতা তৈরি হয়। এতে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরা হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।