দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। তবে কোথাও কোথাও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গায় বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত তারিকুল ইসলামকে সোমবার ভোরে ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুল মোড় এলাকা থেকে আটক করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে ওই বৃদ্ধা মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত যুবক তার ব্যাগ বহনে সহায়তার কথা বলে সঙ্গে যায়। পরে গ্রামের একটি নির্জন মাঠ এলাকায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
যশোরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি টেলিভিশন দেখতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে ফুঁসলিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে সে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। শিশুটিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
কুষ্টিয়ায় সালিশের চেষ্টায় বিতর্ক
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একটি আমবাগানের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আম কুড়াতে গিয়ে ওই শিশু নির্যাতনের শিকার হয়।
পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ খবর পেয়ে সেই উদ্যোগ বন্ধ করে দেয় এবং ঘটনাস্থলে যায়।
কুমিল্লায় দোকানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক দোকানির বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন নামে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মে ওই কিশোর দোকানে খাবার কিনতে গেলে তাকে ভেতরে নিয়ে শাটার বন্ধ করে নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধাদের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতার ঘটনা সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। শিশু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার এবং কঠোর নজরদারির দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















