সীমান্তের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেই ঘটনাকে ‘সীমান্ত হত্যা’ বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কোনো বিদেশি বাহিনী যদি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বা শূন্যরেখায় কাউকে হত্যা করে, তাহলে সেটিকে সীমান্ত হত্যা বলা যেতে পারে। তবে কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকেন বা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন, তাহলে সেই ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা বলা ঠিক হবে না।
সীমান্ত ইস্যুতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ৮ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্ষিক বৈঠক, যা পালাক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতে অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে।
পুশ-ইন ও পুশ-ব্যাকের বিরোধিতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি পরিচয়ে অনেক মানুষকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করার খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে বিজিবিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন বা পুশ-ব্যাক সমর্থন করে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং তার পরিচয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য বৈধ নথির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

যাচাইকৃত তালিকা এখনো আসেনি
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ ধরনের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকারকে যাচাই করা তালিকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাতে হয়। এখন পর্যন্ত এমন কোনো তালিকা বাংলাদেশ পায়নি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা থেকে থাকলেও সেগুলোও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা হবে। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সরকার নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
সীমান্তে অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় মৃত্যু হলে তা ‘সীমান্ত হত্যা’ নয়
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সীমান্তের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা বলা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি পুশ-ইন ও পুশ-ব্যাকের বিরোধিতা করে বলেছেন, যাচাই করা বাংলাদেশি নাগরিকদেরই কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সীমান্ত হত্যা, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিজিবি, বিএসএফ, বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত, পুশ-ইন, পুশ-ব্যাক, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাংলাদেশ, সারাক্ষণ রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















