চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির পদে নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সাইপ্রাসকে পরাজিত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে এ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের বিজয়
নির্বাচনে মোট ১৯০টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯ ভোট, আর সাইপ্রাস পায় ৯১ ভোট। ফলে অল্প ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
সাইপ্রাসের প্রার্থী রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকৌরিস বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে চার দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জন করে বিজয়ী হন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান।
চার দশক পর ফিরে পাওয়া মর্যাদা
সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ এই মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রায় ৪০ বছর পর আবারও এই পদে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন দেশের কূটনৈতিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ পুনরায় এ পদে নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করল।
নির্বাচন ও আঞ্চলিক রোটেশনের প্রক্রিয়া
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যবিধির ৩০ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুসারে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল।
জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ—আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ—পর্যায়ক্রমে এ পদে মনোনয়ন দেয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং প্রতিটি দেশের ভোটের মূল্য সমান।
৮১তম অধিবেশন শুরু সেপ্টেম্বরে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। একই মাসের ২২ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। তিনি ২০২৫ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে ১৪টি প্রতিনিধি দল ভোটদানে বিরত ছিল।
বাংলাদেশের নতুন এই অর্জন জাতিসংঘের সর্ববৃহৎ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দেশের উপস্থিতি ও কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















