০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত তিন কারখানায় ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে চাকরি হারানোর অভিযোগ উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কুয়েত-বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে মে মাসে গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী-শিশু ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার লড়াই: শিরোপার ফাইনালে মায়া চওয়ালিন্সকা ও মিরা আন্দ্রেয়েভা প্রবাসফেরত যুবককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতারে অভিযান হাসিনার ১৭ বছরে যত বেড়েছিল, বিএনপির ৩ মাসেই ততটা বেড়েছে গ্যাসের দাম- এন সি পি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের জীবন সংকটে, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় মেটে-মারিত হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৩ সিলেটে মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫১ জনের, সর্বোচ্চ মৃত্যু এ বছর

বিয়ে থেকে পালাচ্ছে না তরুণেরা, তারা খুঁজছে এমন এক নিশ্চয়তা যা আদৌ নেই

আজকের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একটি জনপ্রিয় অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়—তারা নাকি বিয়েতে আগ্রহ হারিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে চায় না, কিংবা পরিবার গঠনের গুরুত্ব আর আগের মতো অনুভব করে না। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত আরও জটিল। অনেক তরুণ-তরুণী এখনো বিয়ে, পরিবার এবং সন্তান লালন-পালনের স্বপ্ন দেখে। পরিবর্তনটি তাদের আকাঙ্ক্ষায় নয়; পরিবর্তন এসেছে বিয়ে সম্পর্কে তাদের ধারণায়।

সমস্যা হলো, বিয়ে এখন আর জীবনের একটি স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে দেখা হয় না। বরং এটি এমন এক সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে, যার আগে মানুষ সব ধরনের ঝুঁকি দূর করতে চায়। তারা নিশ্চিত হতে চায় যে সম্পর্কটি যথেষ্ট স্থিতিশীল, আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট নিরাপদ, মানসিক সামঞ্জস্য যথেষ্ট দৃঢ়, এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকটগুলোর উত্তর আগেই জানা আছে। কিন্তু মানুষের সম্পর্ক কি কখনো এমন পূর্বনির্ধারিত নিশ্চয়তার ওপর দাঁড়ায়?

আধুনিক বিয়ের ওপর প্রত্যাশার চাপ

কয়েক দশক আগে মানুষ বিয়েকে জীবনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করত, যার ভেতরে থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠত। আজ বিয়ের সংজ্ঞা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। একটি সম্পর্ককে এখন একই সঙ্গে গভীর আবেগীয় সংযোগ, অবিচল বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সফল পিতামাতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার উৎস হতে হবে। এর পাশাপাশি দুই পক্ষকেই পেশাগত সাফল্য ধরে রাখতে হবে এবং দ্রুতগতির জীবনের চাপও সামলাতে হবে।

ফলে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। আগে যেসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ বিবাহিত জীবনের মধ্যেই খুঁজে নিত, এখন সেসব প্রশ্নের সমাধান আগে থেকেই নিশ্চিত করতে চায়। আমরা কি কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপন বজায় রাখতে পারব? সন্তান এলে কর্মজীবনে কী প্রভাব পড়বে? আমরা কি যথেষ্ট মানসিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? দশ বছর পরে যদি সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায় তাহলে কী হবে?

এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অনেকে অপেক্ষা করে। কিন্তু জীবনের এমন অনেক সিদ্ধান্ত আছে যার পূর্ণ নিশ্চয়তা কখনোই পাওয়া যায় না। বিয়ে তার অন্যতম।

নিশ্চয়তার সংস্কৃতি এবং সম্পর্কের ভঙ্গুরতা

আমাদের সময়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিকল্পনার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা। শিক্ষা, পেশা, বাসস্থান কিংবা আর্থিক বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই আমরা অনিশ্চয়তা কমানোর চেষ্টা করি। এই মানসিকতা যখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়।

কারণ সম্পর্ক কোনো প্রকল্প নয়, যেখানে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সব সম্ভাব্য ব্যর্থতা আগেই বাদ দেওয়া যায়। সম্পর্ক মূলত পরিবর্তনশীল মানুষের মধ্যে একটি চলমান সমঝোতা। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, দায়িত্ব বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়। তাই বিয়ের আগে যতই প্রস্তুতি নেওয়া হোক না কেন, বাস্তব জীবনের অনেক পরীক্ষাই সামনে আসে পরে।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক দম্পতি সম্পর্কের স্বাভাবিক টানাপোড়েনকে বিবাহিত জীবনের অংশ হিসেবে না দেখে ভুল সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি, দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ, সন্তান পালনের চাপ—এসব একসময় ছিল বিবাহিত জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। এখন অনেকের কাছে এগুলো সম্পর্কের মৌলিক অসঙ্গতির লক্ষণ বলে মনে হয়।

ফলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়: “আমরা কি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছি?”

The Role of Individual Growth in Marital Happiness | Psychology Today

বিয়ের বাস্তবতা: স্থায়িত্ব নয়, অভিযোজন

মানুষ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে তাদের সাফল্যের কারণ হিসেবে সুখের মুহূর্তগুলোকে কল্পনা করে। কিন্তু অধিকাংশ স্থায়ী সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় সংকটের সময়ে। অসুস্থতা, আর্থিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাই সম্পর্ককে গভীর করে।

কোনো সম্পর্কের মূল্য এই নয় যে সেখানে কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি। বরং মূল্য এই যে দ্বন্দ্বের মধ্যেও সম্পর্কটি টিকে থেকেছে, পরিবর্তিত হয়েছে এবং নতুন ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে।

সমস্যা হলো, আমরা এখন সম্পর্কের শুরুতে যে ধরনের নিশ্চিততার প্রত্যাশা করি, তা সম্পর্কের প্রকৃত স্বভাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সম্পর্কের শক্তি আগে থেকে প্রমাণিত হয় না; এটি সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে।

প্রস্তুতির নতুন সংজ্ঞা

বিয়ের প্রস্তুতি বলতে আমরা প্রায়ই আর্থিক পরিকল্পনা, সামঞ্জস্য যাচাই কিংবা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা বুঝি। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষতা সমানভাবে প্রয়োজন।

মানুষকে শিখতে হবে মতভেদ সামলানো, অগ্রাধিকার নিয়ে সমঝোতা করা, সংঘাতের সময় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে পারা। সম্পর্কে সাহায্য নেওয়াকে ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সমাজ ও কর্মক্ষেত্রকেও প্রশ্ন করতে হবে। যখন দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অবিরাম ডিজিটাল সংযোগ এবং পেশাগত চাপ মানুষের আবেগীয় শক্তি নিঃশেষ করে দেয়, তখন সবচেয়ে সুস্থ সম্পর্কও চাপের মুখে পড়ে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সময় ও মনোযোগ দরকার, অথচ আধুনিক জীবনের কাঠামো প্রায়ই এই দুই সম্পদকেই সংকুচিত করে।

বিয়েকে নতুনভাবে ভাবার সময়

সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো বিয়েকে এমন একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা, যা নেওয়ার আগে ব্যর্থতার সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোনো সম্পর্কই এমন নিশ্চয়তা নিয়ে শুরু হয় না।

বিয়ে মূলত দুই মানুষের একটি দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে অনিশ্চয়তা থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, সমন্বয় থাকবে এবং বারবার নতুন করে একে অপরকে আবিষ্কার করার প্রয়োজন হবে। সম্পর্কের সাফল্য নিখুঁত মানুষ খুঁজে পাওয়ার মধ্যে নয়; বরং অসম্পূর্ণ বাস্তবতার মধ্যেও একসঙ্গে পথ চলার সক্ষমতায়।

তরুণেরা বিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। তারা এখনো ভালোবাসা, সঙ্গ এবং পরিবারে বিশ্বাস করে। কিন্তু তারা এমন এক নিশ্চয়তা খুঁজছে যা কোনো সম্পর্ক দিতে পারে না। হয়তো সময় এসেছে তাদের বোঝানোর যে সফল বিয়ের ভিত্তি নিশ্চিততা নয়, প্রতিশ্রুতি; পূর্বপরীক্ষিত পরিপূর্ণতা নয়, বরং একসঙ্গে পরিবর্তিত হওয়ার ইচ্ছা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

বিয়ে থেকে পালাচ্ছে না তরুণেরা, তারা খুঁজছে এমন এক নিশ্চয়তা যা আদৌ নেই

০৬:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

আজকের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একটি জনপ্রিয় অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়—তারা নাকি বিয়েতে আগ্রহ হারিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে চায় না, কিংবা পরিবার গঠনের গুরুত্ব আর আগের মতো অনুভব করে না। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত আরও জটিল। অনেক তরুণ-তরুণী এখনো বিয়ে, পরিবার এবং সন্তান লালন-পালনের স্বপ্ন দেখে। পরিবর্তনটি তাদের আকাঙ্ক্ষায় নয়; পরিবর্তন এসেছে বিয়ে সম্পর্কে তাদের ধারণায়।

সমস্যা হলো, বিয়ে এখন আর জীবনের একটি স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে দেখা হয় না। বরং এটি এমন এক সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে, যার আগে মানুষ সব ধরনের ঝুঁকি দূর করতে চায়। তারা নিশ্চিত হতে চায় যে সম্পর্কটি যথেষ্ট স্থিতিশীল, আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট নিরাপদ, মানসিক সামঞ্জস্য যথেষ্ট দৃঢ়, এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকটগুলোর উত্তর আগেই জানা আছে। কিন্তু মানুষের সম্পর্ক কি কখনো এমন পূর্বনির্ধারিত নিশ্চয়তার ওপর দাঁড়ায়?

আধুনিক বিয়ের ওপর প্রত্যাশার চাপ

কয়েক দশক আগে মানুষ বিয়েকে জীবনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করত, যার ভেতরে থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠত। আজ বিয়ের সংজ্ঞা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। একটি সম্পর্ককে এখন একই সঙ্গে গভীর আবেগীয় সংযোগ, অবিচল বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সফল পিতামাতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার উৎস হতে হবে। এর পাশাপাশি দুই পক্ষকেই পেশাগত সাফল্য ধরে রাখতে হবে এবং দ্রুতগতির জীবনের চাপও সামলাতে হবে।

ফলে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। আগে যেসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ বিবাহিত জীবনের মধ্যেই খুঁজে নিত, এখন সেসব প্রশ্নের সমাধান আগে থেকেই নিশ্চিত করতে চায়। আমরা কি কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপন বজায় রাখতে পারব? সন্তান এলে কর্মজীবনে কী প্রভাব পড়বে? আমরা কি যথেষ্ট মানসিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? দশ বছর পরে যদি সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায় তাহলে কী হবে?

এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অনেকে অপেক্ষা করে। কিন্তু জীবনের এমন অনেক সিদ্ধান্ত আছে যার পূর্ণ নিশ্চয়তা কখনোই পাওয়া যায় না। বিয়ে তার অন্যতম।

নিশ্চয়তার সংস্কৃতি এবং সম্পর্কের ভঙ্গুরতা

আমাদের সময়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিকল্পনার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা। শিক্ষা, পেশা, বাসস্থান কিংবা আর্থিক বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই আমরা অনিশ্চয়তা কমানোর চেষ্টা করি। এই মানসিকতা যখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়।

কারণ সম্পর্ক কোনো প্রকল্প নয়, যেখানে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সব সম্ভাব্য ব্যর্থতা আগেই বাদ দেওয়া যায়। সম্পর্ক মূলত পরিবর্তনশীল মানুষের মধ্যে একটি চলমান সমঝোতা। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, দায়িত্ব বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়। তাই বিয়ের আগে যতই প্রস্তুতি নেওয়া হোক না কেন, বাস্তব জীবনের অনেক পরীক্ষাই সামনে আসে পরে।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক দম্পতি সম্পর্কের স্বাভাবিক টানাপোড়েনকে বিবাহিত জীবনের অংশ হিসেবে না দেখে ভুল সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি, দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ, সন্তান পালনের চাপ—এসব একসময় ছিল বিবাহিত জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। এখন অনেকের কাছে এগুলো সম্পর্কের মৌলিক অসঙ্গতির লক্ষণ বলে মনে হয়।

ফলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়: “আমরা কি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছি?”

The Role of Individual Growth in Marital Happiness | Psychology Today

বিয়ের বাস্তবতা: স্থায়িত্ব নয়, অভিযোজন

মানুষ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে তাদের সাফল্যের কারণ হিসেবে সুখের মুহূর্তগুলোকে কল্পনা করে। কিন্তু অধিকাংশ স্থায়ী সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় সংকটের সময়ে। অসুস্থতা, আর্থিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাই সম্পর্ককে গভীর করে।

কোনো সম্পর্কের মূল্য এই নয় যে সেখানে কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি। বরং মূল্য এই যে দ্বন্দ্বের মধ্যেও সম্পর্কটি টিকে থেকেছে, পরিবর্তিত হয়েছে এবং নতুন ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে।

সমস্যা হলো, আমরা এখন সম্পর্কের শুরুতে যে ধরনের নিশ্চিততার প্রত্যাশা করি, তা সম্পর্কের প্রকৃত স্বভাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সম্পর্কের শক্তি আগে থেকে প্রমাণিত হয় না; এটি সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে।

প্রস্তুতির নতুন সংজ্ঞা

বিয়ের প্রস্তুতি বলতে আমরা প্রায়ই আর্থিক পরিকল্পনা, সামঞ্জস্য যাচাই কিংবা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা বুঝি। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষতা সমানভাবে প্রয়োজন।

মানুষকে শিখতে হবে মতভেদ সামলানো, অগ্রাধিকার নিয়ে সমঝোতা করা, সংঘাতের সময় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে পারা। সম্পর্কে সাহায্য নেওয়াকে ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সমাজ ও কর্মক্ষেত্রকেও প্রশ্ন করতে হবে। যখন দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অবিরাম ডিজিটাল সংযোগ এবং পেশাগত চাপ মানুষের আবেগীয় শক্তি নিঃশেষ করে দেয়, তখন সবচেয়ে সুস্থ সম্পর্কও চাপের মুখে পড়ে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সময় ও মনোযোগ দরকার, অথচ আধুনিক জীবনের কাঠামো প্রায়ই এই দুই সম্পদকেই সংকুচিত করে।

বিয়েকে নতুনভাবে ভাবার সময়

সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো বিয়েকে এমন একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা, যা নেওয়ার আগে ব্যর্থতার সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোনো সম্পর্কই এমন নিশ্চয়তা নিয়ে শুরু হয় না।

বিয়ে মূলত দুই মানুষের একটি দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে অনিশ্চয়তা থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, সমন্বয় থাকবে এবং বারবার নতুন করে একে অপরকে আবিষ্কার করার প্রয়োজন হবে। সম্পর্কের সাফল্য নিখুঁত মানুষ খুঁজে পাওয়ার মধ্যে নয়; বরং অসম্পূর্ণ বাস্তবতার মধ্যেও একসঙ্গে পথ চলার সক্ষমতায়।

তরুণেরা বিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। তারা এখনো ভালোবাসা, সঙ্গ এবং পরিবারে বিশ্বাস করে। কিন্তু তারা এমন এক নিশ্চয়তা খুঁজছে যা কোনো সম্পর্ক দিতে পারে না। হয়তো সময় এসেছে তাদের বোঝানোর যে সফল বিয়ের ভিত্তি নিশ্চিততা নয়, প্রতিশ্রুতি; পূর্বপরীক্ষিত পরিপূর্ণতা নয়, বরং একসঙ্গে পরিবর্তিত হওয়ার ইচ্ছা।