মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি, লেবানন সীমান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে একাধিক ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন বাহিনীর মতে, এর আগে তারা হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া চারটি ইরানি ড্রোনও প্রতিহত করে এবং ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।
এ ঘটনার পর কুয়েত ও বাহরাইন জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। বাহরাইনে দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষও জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমন্বয় ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী জাহাজের মধ্যে একটিতে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। হামলার পর একটি ট্যাংকার থেমে যায় এবং অন্যগুলো ফিরে যায় বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ওমান উপসাগরে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছে, ইরানি বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি এবং এমন ঘটনা ঘটলে তা যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতো।
লেবাননে সংঘাত অব্যাহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একাধিক হামলায় নারী ও জরুরি সেবাকর্মীসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর একাধিক সদস্য ও কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইরানের সমালোচনা করে বলেছেন, তার দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও। তারা উভয়েই সংঘাত নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অনিশ্চিত
সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২৪ বিলিয়ন ডলারের স্থগিত সম্পদ মুক্ত না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অনিশ্চিত কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















