০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
আসামে বন্যার পানি নামতেই বাড়ছে রোগের শঙ্কা, নিরাপদ পানি ও মশা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান আসামের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের দাবি আগস্টে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আসামে ১০ বছরে ৬,২১১ শিশুশ্রমিক শনাক্ত, পুনর্বাসন হয়েছে ৬,১২৩ জনের আজাদ কাশ্মীর নির্বাচনে বড় জয় নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনের, ১৩ আসনের ৯টিই দখল সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থায় হুতিদের হামলার দাবি, বাড়ছে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ চীনের চিপ প্রতিযোগিতার ভয়ে এশিয়ার প্রযুক্তি বাজারে বড় ধস হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি ও ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা এশিয়ায় কয়লার আমদানি টানা তৃতীয় মাসে বাড়ল, ব্যতিক্রম ভারত মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সূক্ষ্ম সংকট: প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে কীভাবে

তিন কারখানায় ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে চাকরি হারানোর অভিযোগ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে এসে চাকরি হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন সাভার ও আশুলিয়ার আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিক। ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা। তারা অভিযোগ করেছেন, শ্রম আইন অনুসরণ না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভারের উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

শ্রমিকদের ভিড়, তালিকায় নিজের নাম খোঁজা

শনিবার সকালে উলাইল ও রেডিও কলোনির কারখানাগুলোর সামনে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ভিড় দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকে টানানো তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজতে দেখা যায়। শ্রমিকদের দাবি, তারা কাজে যোগ দিতে এসে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখতে পান। অনেকের অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিক আফানুর জানান, মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সকালে কারখানায় এলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন রোজিনা আক্তার, মো. রকিবুল্লাহ ও আছিয়া আক্তারসহ আরও অনেকে।

বেতন ও শ্রম আইন নিয়ে বিরোধ

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। তবে তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা পরিশোধ করা উচিত ছিল। এছাড়া ব্যবসায়িক মন্দা ও কাজের সংকটকে ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, ঈদের আগে তাদের ২০ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছিল। পরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এবং নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

প্রতিবাদ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দুপুরের পর ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদেরও ছাঁটাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, অতিরিক্ত শ্রমিক থাকলে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্তদের আগে ছাঁটাই করার নীতি অনুসরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু বহু বছর ধরে কর্মরত শ্রমিকদেরও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবু রায়হান বলেন, শ্রমিকদের শ্রম আইন ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং তাদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তিন মাসের বেতন দেওয়ার দাবি তারা মানছেন না বলেও জানান তিনি। তবে যাদের পাওনা পরিশোধে কোনো সমস্যা রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শিল্প পুলিশ

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শ্রমিকদের শান্ত করেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। তার দাবি, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে একযোগে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাকরি হারানো শ্রমিকরা এখন পুনর্বহাল ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে বন্যার পানি নামতেই বাড়ছে রোগের শঙ্কা, নিরাপদ পানি ও মশা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান

তিন কারখানায় ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে চাকরি হারানোর অভিযোগ

০৯:১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে এসে চাকরি হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন সাভার ও আশুলিয়ার আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিক। ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা। তারা অভিযোগ করেছেন, শ্রম আইন অনুসরণ না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভারের উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

শ্রমিকদের ভিড়, তালিকায় নিজের নাম খোঁজা

শনিবার সকালে উলাইল ও রেডিও কলোনির কারখানাগুলোর সামনে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ভিড় দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকে টানানো তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজতে দেখা যায়। শ্রমিকদের দাবি, তারা কাজে যোগ দিতে এসে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখতে পান। অনেকের অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিক আফানুর জানান, মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সকালে কারখানায় এলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন রোজিনা আক্তার, মো. রকিবুল্লাহ ও আছিয়া আক্তারসহ আরও অনেকে।

বেতন ও শ্রম আইন নিয়ে বিরোধ

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। তবে তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা পরিশোধ করা উচিত ছিল। এছাড়া ব্যবসায়িক মন্দা ও কাজের সংকটকে ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, ঈদের আগে তাদের ২০ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছিল। পরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এবং নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

প্রতিবাদ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দুপুরের পর ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদেরও ছাঁটাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, অতিরিক্ত শ্রমিক থাকলে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্তদের আগে ছাঁটাই করার নীতি অনুসরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু বহু বছর ধরে কর্মরত শ্রমিকদেরও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবু রায়হান বলেন, শ্রমিকদের শ্রম আইন ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং তাদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তিন মাসের বেতন দেওয়ার দাবি তারা মানছেন না বলেও জানান তিনি। তবে যাদের পাওনা পরিশোধে কোনো সমস্যা রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শিল্প পুলিশ

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শ্রমিকদের শান্ত করেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। তার দাবি, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে একযোগে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাকরি হারানো শ্রমিকরা এখন পুনর্বহাল ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।