চলতি বছরের মধ্যে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মে মাসে। এ মাসে বিভাগের চার জেলায় মোট ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত এবং ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী বা এর যাত্রী।
শনিবার প্রকাশিত নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের এই মৃত্যুর সংখ্যা চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি।
জেলাভিত্তিক চিত্র
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট জেলাতেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জে ১৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন, আহত হয়েছেন ২০ জন। হবিগঞ্জে সাতটি দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মৌলভীবাজারে পাঁচটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন, যা বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ঈদকেন্দ্রিক দুর্ঘটনায়ও প্রাণহানি
মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মাসজুড়ে বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার কারণ কী?
নিসচার প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া যানচালনা, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের সচেতনতার অভাব এবং সড়ক নকশাগত ত্রুটি।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, পাঁচটি স্থানীয় পত্রিকা, বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম, দুটি জাতীয় দৈনিক, সম্ভাব্য অপ্রকাশিত ঘটনার তথ্য এবং নিসচার সিলেটের বিভিন্ন শাখার সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
এপ্রিলের তুলনায় বেড়েছে প্রাণহানি
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সিলেট বিভাগে ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় মে মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রাণহানির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ থাকলেও সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান আবারও দেখিয়ে দিল, কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সিলেটে মে মাসে ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে বিভাগে এটিই সর্বোচ্চ মাসিক প্রাণহানির ঘটনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















