০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ ভারতে স্মার্ট চশমায় গোপন ভিডিও, এক ভিডিওতে উল্টে গেল জীবন আলুর রাজধানীতে চীনের এআই ডেটা সেন্টার, গড়ে উঠছে চীনা গতিতে এআই নিয়ে বিপর্যয়ের সতর্কতা, তবু গতি কমাতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলার সাত বছর পর ১৫ জনের দীর্ঘ কারাদণ্ড ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদের সব পথ বন্ধ ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে স্থিতাবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ

বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ‘এরোপ্লেন বয়’, এক বছর পরও আতঙ্ক কাটেনি আরিয়ানের

ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে গুজরাটের এক কিশোরকে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের শেষ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী আরিয়ান আসারি। সেই ঘটনাই তাকে পরিচিত করে তোলে ‘এরোপ্লেন বয়’ নামে।

তবে আকস্মিকভাবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেও দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আজও তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। আরিয়ান এখনো বিমানে চড়ার সাহস পান না, এমনকি আকাশে উড়ন্ত বিমান দেখলেও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে ভয় পান।

যেভাবে ধারণ হয়েছিল দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত

ঘটনার দিন আরিয়ান প্রথমবারের মতো আহমেদাবাদে গিয়েছিলেন তার বাবা মাগন আসারির কাছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বাবার বাড়ি ছিল মেঘানিনগর এলাকায়। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে তিনি খুব কাছ থেকে একটি বিমান উড়তে দেখেন। গ্রামের বন্ধুদের দেখানোর জন্য তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

আরিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন বিমানটি স্বাভাবিকভাবে উড়ছে বা হয়তো অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং পরে আগুনের বিশাল গোলায় পরিণত হয়।

তিনি বলেন, এমন দৃশ্য জীবনে কখনো কল্পনাও করেননি। চোখের সামনে পুরো ঘটনাটি ঘটতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মানসিক আঘাত এখনো কাটেনি

এক বছর পরও সেই অভিজ্ঞতা আরিয়ানকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তার মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে যে তিনি যদি আবার কোনো বিমানের ভিডিও ধারণ করেন, তবে সেটিও হয়তো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

এই অযৌক্তিক ভয় তার দৈনন্দিন চিন্তায়ও প্রভাব ফেলেছে। বিদেশে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও বিমানে ওঠার সাহস এখনো পাননি তিনি। দুর্ঘটনার স্মৃতি তাকে বারবার সেই দিনের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এক ভিডিওতে বদলে যায় জীবন

দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই আরিয়ানের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তার সাক্ষাৎকার নিতে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। নিজ গ্রামেও তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ।

আরিয়ান জানান, গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর সবাই তার কাছে ভিডিওটি দেখতে চাইত। বন্ধুরা তাকে বলত যে তিনি বিখ্যাত হয়ে গেছেন। এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে অনেকেই তাকে চিনে ফেলেন এবং ‘এরোপ্লেন বয়’ বলে সম্বোধন করেন।

দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬০ জন

এআই-১৭১ ফ্লাইটটি ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, যা আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ড পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২২৯ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ মোট ২৪১ জন প্রাণ হারান। এছাড়া মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০ জনে, যা ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার যেমন শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তেমনি ঘটনাটির আকস্মিক সাক্ষী হয়ে ওঠা আরিয়ান আসারির জীবনেও সেই দিনের স্মৃতি এখনো গভীরভাবে রয়ে গেছে।

#এয়ারইন্ডিয়া #বিমানদুর্ঘটনা #আরিয়ানআসারি #এরোপ্লেনবয় #আহমেদাবাদ #ভারত #বিমাননিরাপত্তা #লন্ডনফ্লাইট #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ

বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ‘এরোপ্লেন বয়’, এক বছর পরও আতঙ্ক কাটেনি আরিয়ানের

০২:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে গুজরাটের এক কিশোরকে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের শেষ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী আরিয়ান আসারি। সেই ঘটনাই তাকে পরিচিত করে তোলে ‘এরোপ্লেন বয়’ নামে।

তবে আকস্মিকভাবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেও দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আজও তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। আরিয়ান এখনো বিমানে চড়ার সাহস পান না, এমনকি আকাশে উড়ন্ত বিমান দেখলেও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে ভয় পান।

যেভাবে ধারণ হয়েছিল দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত

ঘটনার দিন আরিয়ান প্রথমবারের মতো আহমেদাবাদে গিয়েছিলেন তার বাবা মাগন আসারির কাছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বাবার বাড়ি ছিল মেঘানিনগর এলাকায়। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে তিনি খুব কাছ থেকে একটি বিমান উড়তে দেখেন। গ্রামের বন্ধুদের দেখানোর জন্য তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

আরিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন বিমানটি স্বাভাবিকভাবে উড়ছে বা হয়তো অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং পরে আগুনের বিশাল গোলায় পরিণত হয়।

তিনি বলেন, এমন দৃশ্য জীবনে কখনো কল্পনাও করেননি। চোখের সামনে পুরো ঘটনাটি ঘটতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মানসিক আঘাত এখনো কাটেনি

এক বছর পরও সেই অভিজ্ঞতা আরিয়ানকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তার মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে যে তিনি যদি আবার কোনো বিমানের ভিডিও ধারণ করেন, তবে সেটিও হয়তো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

এই অযৌক্তিক ভয় তার দৈনন্দিন চিন্তায়ও প্রভাব ফেলেছে। বিদেশে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও বিমানে ওঠার সাহস এখনো পাননি তিনি। দুর্ঘটনার স্মৃতি তাকে বারবার সেই দিনের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এক ভিডিওতে বদলে যায় জীবন

দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই আরিয়ানের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তার সাক্ষাৎকার নিতে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। নিজ গ্রামেও তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ।

আরিয়ান জানান, গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর সবাই তার কাছে ভিডিওটি দেখতে চাইত। বন্ধুরা তাকে বলত যে তিনি বিখ্যাত হয়ে গেছেন। এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে অনেকেই তাকে চিনে ফেলেন এবং ‘এরোপ্লেন বয়’ বলে সম্বোধন করেন।

দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬০ জন

এআই-১৭১ ফ্লাইটটি ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, যা আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ড পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২২৯ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ মোট ২৪১ জন প্রাণ হারান। এছাড়া মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০ জনে, যা ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার যেমন শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তেমনি ঘটনাটির আকস্মিক সাক্ষী হয়ে ওঠা আরিয়ান আসারির জীবনেও সেই দিনের স্মৃতি এখনো গভীরভাবে রয়ে গেছে।

#এয়ারইন্ডিয়া #বিমানদুর্ঘটনা #আরিয়ানআসারি #এরোপ্লেনবয় #আহমেদাবাদ #ভারত #বিমাননিরাপত্তা #লন্ডনফ্লাইট #সারাক্ষণরিপোর্ট