০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর? পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপন, অপহরণের দাবিও ভুয়া: শিবির নেতার বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস, বিনিয়োগ টানতে নতুন রোডম্যাপের ইঙ্গিত ইরানঘেঁষা তেলবাহী জাহাজে হামলা ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ ভারতের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?  ভারতে  খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশে, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ন্যাটোর দিকে ঝুঁকছে তুরস্ক, বদলে যাচ্ছে আঙ্কারার কৌশল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্কের ছায়া, কেলেঙ্কারি পেরিয়েই ফুটবলের মহোৎসব

ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?

ব্রিটেনের পানি ও জ্বালানি খাত নিয়ে জনঅসন্তোষ এখন তুঙ্গে। নদী-নালা দূষণ, অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন, বাড়তি বিল এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক মনে করছেন, বেসরকারিকরণের ব্যর্থতাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বলছেন, সমস্যার আসল কারণ মালিকানার ধরনে নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা ও বিনিয়োগ ঘাটতিতে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কী বলছে

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। তবুও প্রতিষ্ঠানটি গুরুতর সংকটে রয়েছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নতুন আবাসন প্রকল্পও বাধার মুখে পড়ছে।

এই উদাহরণ অনেকের কাছে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিজেই সমস্যার সমাধান নয়। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থেকেও একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা, অর্থসংকট এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগতে পারে।

Future water supply plan announced by NI Water

বেসরকারিকরণের কিছু ইতিবাচক দিক

সমালোচনা থাকলেও বেসরকারিকরণের ফলে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বেড়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমেছে এবং পানির অপচয়ও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। প্রতিযোগিতার কারণে কিছু জ্বালানি কোম্পানি নতুন ধরনের সেবা ও মূল্য কাঠামো চালু করতে পেরেছে, যা গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যথাযথ নজরদারি করতে ব্যর্থ হয়। অতীতে অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণ করেছিল, যার মূল্য শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই দিতে হয়েছে।

বিনিয়োগ সংকটের আসল কারণ

অনেকেই মনে করেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানা ফিরিয়ে আনলে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। নতুন জলাধার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তহীনতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে আটকে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালিকানা পরিবর্তন করলেও নতুন অবকাঠামোর খরচ কমবে না। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ আসবে জনগণের বিল, কর বা অন্য খাতের ব্যয় কমানোর মাধ্যমে।’

Trump Administration Will Pay to Cancel More Wind Farms - The New York Times

রাষ্ট্রীয় মালিকানার লুকানো ব্যয়

পানি ও জ্বালানি খাত পুনরায় রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনতে গেলে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। সম্পদ অধিগ্রহণের মূল্য নির্ধারণ, নতুন ঋণ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভুল মূল্য নির্ধারণ হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের সুবিধাও হারিয়ে যাবে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই হতে পারে পথ

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ সরকারের হাতে থাকা উচিত, কিন্তু সেবা পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে একদিকে জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের সুবিধাও পাওয়া যাবে।

No One Knows What Britain Is Anymore - The New York Times

স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার কিছু সফল উদাহরণ দেখিয়েছে যে সরকারি তদারকি ও বেসরকারি পরিচালনার সমন্বিত মডেল অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

মূল চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক

ব্রিটেনের পানি ও জ্বালানি খাতের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশগত মান উন্নয়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা এড়িয়ে শুধু মালিকানা নিয়ে বিতর্ক করলে সমস্যার সমাধান হবে না। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের সাহস।

রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি—যে মডেলই বেছে নেওয়া হোক না কেন, প্রকৃত প্রশ্ন হলো জনগণ কতটা মূল্য দিতে প্রস্তুত এবং সরকার কতটা দায়িত্ব নিতে রাজি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ

ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?

০২:২১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের পানি ও জ্বালানি খাত নিয়ে জনঅসন্তোষ এখন তুঙ্গে। নদী-নালা দূষণ, অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন, বাড়তি বিল এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক মনে করছেন, বেসরকারিকরণের ব্যর্থতাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বলছেন, সমস্যার আসল কারণ মালিকানার ধরনে নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা ও বিনিয়োগ ঘাটতিতে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কী বলছে

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। তবুও প্রতিষ্ঠানটি গুরুতর সংকটে রয়েছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নতুন আবাসন প্রকল্পও বাধার মুখে পড়ছে।

এই উদাহরণ অনেকের কাছে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিজেই সমস্যার সমাধান নয়। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থেকেও একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা, অর্থসংকট এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগতে পারে।

Future water supply plan announced by NI Water

বেসরকারিকরণের কিছু ইতিবাচক দিক

সমালোচনা থাকলেও বেসরকারিকরণের ফলে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বেড়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমেছে এবং পানির অপচয়ও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। প্রতিযোগিতার কারণে কিছু জ্বালানি কোম্পানি নতুন ধরনের সেবা ও মূল্য কাঠামো চালু করতে পেরেছে, যা গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যথাযথ নজরদারি করতে ব্যর্থ হয়। অতীতে অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণ করেছিল, যার মূল্য শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই দিতে হয়েছে।

বিনিয়োগ সংকটের আসল কারণ

অনেকেই মনে করেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানা ফিরিয়ে আনলে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। নতুন জলাধার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তহীনতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে আটকে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালিকানা পরিবর্তন করলেও নতুন অবকাঠামোর খরচ কমবে না। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ আসবে জনগণের বিল, কর বা অন্য খাতের ব্যয় কমানোর মাধ্যমে।’

Trump Administration Will Pay to Cancel More Wind Farms - The New York Times

রাষ্ট্রীয় মালিকানার লুকানো ব্যয়

পানি ও জ্বালানি খাত পুনরায় রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনতে গেলে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। সম্পদ অধিগ্রহণের মূল্য নির্ধারণ, নতুন ঋণ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভুল মূল্য নির্ধারণ হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের সুবিধাও হারিয়ে যাবে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই হতে পারে পথ

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ সরকারের হাতে থাকা উচিত, কিন্তু সেবা পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে একদিকে জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের সুবিধাও পাওয়া যাবে।

No One Knows What Britain Is Anymore - The New York Times

স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার কিছু সফল উদাহরণ দেখিয়েছে যে সরকারি তদারকি ও বেসরকারি পরিচালনার সমন্বিত মডেল অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

মূল চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক

ব্রিটেনের পানি ও জ্বালানি খাতের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশগত মান উন্নয়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা এড়িয়ে শুধু মালিকানা নিয়ে বিতর্ক করলে সমস্যার সমাধান হবে না। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের সাহস।

রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি—যে মডেলই বেছে নেওয়া হোক না কেন, প্রকৃত প্রশ্ন হলো জনগণ কতটা মূল্য দিতে প্রস্তুত এবং সরকার কতটা দায়িত্ব নিতে রাজি।