০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়, দরকার পেশাগত ন্যায়বিচারের কাঠামো একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু নীতিতে নয়, সন্তান পালনের গল্পেও নির্ধারিত হয় এত বিপুল সংখ্যক শিশুমৃত্যু বাংলাদেশ আগে কখনও দেখেনি কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস বাবার নীরব ভালোবাসা: স্মৃতি, ত্যাগ আর অটুট বন্ধনের গল্প চালকের উদ্বেগ কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ঝড় তুলেছে প্রোটন বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন

কোরিয়ান নাটকে ইন্দোনেশিয়ার কফি ক্যান্ডির ঝড়, জনপ্রিয়তার শীর্ষে কোপিকো

কোরিয়ান নাটক মানেই এখন শুধু গল্প বা অভিনয় নয়, দর্শকদের নজর কাড়ছে বিভিন্ন খাবার ও পণ্যের উপস্থিতিও। সেই তালিকায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় কফি ক্যান্ডি ‘কোপিকো’। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে একের পর এক কোরিয়ান নাটকে এই ক্যান্ডির উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

নাটকের পর্দা থেকে বাজারে সাফল্য

২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জনপ্রিয় কোরিয়ান নাটকে কোপিকোকে দেখা যাচ্ছে। নাটকের চরিত্রদের কখনও ক্লান্তি দূর করতে, কখনও চাপ কমাতে আবার কখনও মজাদার খাবার হিসেবে এই ক্যান্ডি খেতে দেখা গেছে। নাটকের দৃশ্যে ক্যান্ডির মোড়কও স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে, যা দর্শকদের নজর এড়ায়নি।

এই পরিকল্পনার পেছনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য ছিল কোরিয়ান নাটকের বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর কাছে কোপিকোকে পরিচিত করে তোলা। সময়ের সঙ্গে সেই কৌশল সফলও হয়েছে।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে বেড়েছে বিক্রি

টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোপিকোর পরিচিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যটি আসার পর অল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক প্যাকেট বিক্রি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নাটকে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে দর্শকদের মধ্যে ক্যান্ডিটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে তারা অনলাইনে খোঁজ করেন এবং অনেকেই কিনে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বিক্রিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

A Kopiko candy pack can be seen in a scene from 'Vincenzo' on tvN. Screen capture from tvN

কেন কার্যকর এই বিপণন কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় নাটকের ভেতরে পণ্য প্রদর্শন অনেক বেশি কার্যকর। সাধারণ বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রচারিত হলেও নাটকের দৃশ্য বারবার সম্প্রচার করা যায়। এছাড়া অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোনো সিরিজ বছরের পর বছর ধরে দেখা সম্ভব হওয়ায় পণ্যটির প্রচারও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এ ধরনের বিপণনে নির্মাতাদের গল্পের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে পণ্যকে যুক্ত করা হয়। ফলে দর্শকদের কাছে এটি জোরপূর্বক বিজ্ঞাপন বলে মনে হয় না। বরং চরিত্রদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই পণ্যটি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

বিশ্ববাজারে কোরিয়ান নাটকের প্রভাব

কোরিয়ান নাটকের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এখন বিপণন জগতেও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শক শুধু গল্প নয়, নাটকে দেখানো পোশাক, খাবার, প্রসাধনী ও জীবনযাপন সম্পর্কেও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

এই প্রবণতার সুযোগ নিয়েই কোপিকো আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরিয়ান কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্ডিটির পরিচিতিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বিপণন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতেও কোরিয়ান নাটক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য শক্তিশালী প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং দর্শকদের কাছে আরও নতুন পণ্য পরিচিত করে তুলবে।

কোরিয়ান নাটকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়ার কোপিকো ক্যান্ডি দক্ষিণ কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পরিচিতি ও বিক্রি বাড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার

কোরিয়ান নাটকে ইন্দোনেশিয়ার কফি ক্যান্ডির ঝড়, জনপ্রিয়তার শীর্ষে কোপিকো

০৭:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

কোরিয়ান নাটক মানেই এখন শুধু গল্প বা অভিনয় নয়, দর্শকদের নজর কাড়ছে বিভিন্ন খাবার ও পণ্যের উপস্থিতিও। সেই তালিকায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় কফি ক্যান্ডি ‘কোপিকো’। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে একের পর এক কোরিয়ান নাটকে এই ক্যান্ডির উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

নাটকের পর্দা থেকে বাজারে সাফল্য

২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জনপ্রিয় কোরিয়ান নাটকে কোপিকোকে দেখা যাচ্ছে। নাটকের চরিত্রদের কখনও ক্লান্তি দূর করতে, কখনও চাপ কমাতে আবার কখনও মজাদার খাবার হিসেবে এই ক্যান্ডি খেতে দেখা গেছে। নাটকের দৃশ্যে ক্যান্ডির মোড়কও স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে, যা দর্শকদের নজর এড়ায়নি।

এই পরিকল্পনার পেছনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য ছিল কোরিয়ান নাটকের বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর কাছে কোপিকোকে পরিচিত করে তোলা। সময়ের সঙ্গে সেই কৌশল সফলও হয়েছে।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে বেড়েছে বিক্রি

টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোপিকোর পরিচিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যটি আসার পর অল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক প্যাকেট বিক্রি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নাটকে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে দর্শকদের মধ্যে ক্যান্ডিটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে তারা অনলাইনে খোঁজ করেন এবং অনেকেই কিনে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বিক্রিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

A Kopiko candy pack can be seen in a scene from 'Vincenzo' on tvN. Screen capture from tvN

কেন কার্যকর এই বিপণন কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় নাটকের ভেতরে পণ্য প্রদর্শন অনেক বেশি কার্যকর। সাধারণ বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রচারিত হলেও নাটকের দৃশ্য বারবার সম্প্রচার করা যায়। এছাড়া অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোনো সিরিজ বছরের পর বছর ধরে দেখা সম্ভব হওয়ায় পণ্যটির প্রচারও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এ ধরনের বিপণনে নির্মাতাদের গল্পের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে পণ্যকে যুক্ত করা হয়। ফলে দর্শকদের কাছে এটি জোরপূর্বক বিজ্ঞাপন বলে মনে হয় না। বরং চরিত্রদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই পণ্যটি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

বিশ্ববাজারে কোরিয়ান নাটকের প্রভাব

কোরিয়ান নাটকের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এখন বিপণন জগতেও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শক শুধু গল্প নয়, নাটকে দেখানো পোশাক, খাবার, প্রসাধনী ও জীবনযাপন সম্পর্কেও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

এই প্রবণতার সুযোগ নিয়েই কোপিকো আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরিয়ান কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্ডিটির পরিচিতিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বিপণন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতেও কোরিয়ান নাটক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য শক্তিশালী প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং দর্শকদের কাছে আরও নতুন পণ্য পরিচিত করে তুলবে।

কোরিয়ান নাটকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়ার কোপিকো ক্যান্ডি দক্ষিণ কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পরিচিতি ও বিক্রি বাড়িয়েছে।