লেবাননে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অবশেষে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এই দুই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননে কয়েক দিনের সহিংসতা কূটনৈতিক উদ্যোগকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের ভূমিকা
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করেন।
হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এবং একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ হামলা না চালালে তাদের পক্ষ থেকেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি আপাতত বহাল থাকবে।
যুদ্ধবিরতির পরও হামলার অভিযোগ
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম এক ঘণ্টায় ইসরায়েল প্রায় এক ডজন বিমান হামলা চালায়। তবে বিকেল ৫টার পর আর কোনো হামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে এক ঘটনায় তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, নতুবা অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননের সংঘাত বাড়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়। তবে নতুন করে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
লেবাননকে ঘিরে নতুন আলোচনা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে একটি পূর্ণ সার্বভৌম লেবাননের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দুই পক্ষ আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, এই আলোচনার মূল ভিত্তি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।
জ্বালানি বাজারে স্বস্তি
লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে, তবে সাপ্তাহিক হিসাবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পথে রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনও বাড়তে শুরু করেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রণালিটি বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। নতুন অন্তর্বর্তী সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এই অন্তর্বর্তী চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধের ফলে ইরান দুর্বল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপের মুখে নয়, বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোচ্ছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন গতি, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।
#লেবানন #ইসরায়েল #হিজবুল্লাহ #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #মধ্যপ্রাচ্য #যুদ্ধবিরতি #কূটনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
Sarakhon Report 


















