নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিআইডি পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় আরও দুই সহযোগীকে খুঁজছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন ডিবির এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির এবং আকাশ আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
অপহরণচেষ্টার অভিযোগ
মামলার বাদী অমিত হাসান মিরাজের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউসিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তাকে আটক করার চেষ্টা করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অনলাইন ক্যাসিনো সংক্রান্ত তদন্তের কথা বলে তাকে গাউসিয়ার একটি পাবলিক টয়লেটে আটকে রাখেন এবং তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন। পরে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের ভুয়া পুলিশ সন্দেহে গণপিটুনি দেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সবাই সাদা পোশাকে ছিলেন। পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্ত সদস্যরা ইউনিফর্মে ছিলেন না।
স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও গণপিটুনি
ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে আটক হন এসআই মামুন, এএসআই আমান এবং কনস্টেবল কবির। পরে আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে কনস্টেবল আকাশ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই চক্র এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেছে।
অমিত হাসান মিরাজের দাবি, গত ১৫ জুন তার এক আত্মীয়কে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় এবং পরে পরিবারের সদস্যরা আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে জাকির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও একই কৌশলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা কখনও সিআইডি আবার কখনও ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।

পুলিশের বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানিয়েছেন, গণপিটুনির শিকার হওয়া তিন পুলিশ সদস্য পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, মামলার অন্য দুই আসামি—চালক আবু বক্কর সিদ্দিক ও মো. সেলিম—পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অপহরণ ও অর্থ আদায় করে আসছিল। তারা এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রূপগঞ্জে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে চার ডিবি সদস্য গ্রেফতার। গণপিটুনির পর তিনজন হাসপাতালে, পলাতক দুই সহযোগীকে খুঁজছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















