০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ব্রেক্সিটের এক দশক: হারানো সময় পেরিয়ে ভবিষ্যতের পথে ব্রিটেন?

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্তের এক দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের গণভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেওয়ার পর দেশের সামনে যে নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবে দেখা যায়নি। বরং গত ১০ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব কমে যাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময় ব্রিটেনকে একটি নতুন অবস্থান খুঁজে নিতে বাধ্য করেছে। তবে সেই পথচলা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। ফলে দেশটির সামনে বড় প্রশ্ন হলো—অতীতের বিতর্কে আটকে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেবে।

অর্থনীতিতে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক

ব্রেক্সিটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা এবং জাতীয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা। কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল থেকেছে। উৎপাদনশীলতা বাড়েনি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি ব্যয়ও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিটের ফলে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়েছে নতুন নিয়মকানুন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সামলাতে। এতে উন্নয়নমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পিছিয়ে গেছে।

More Brits than ever say Brexit was wrong choice: YouGov survey | Reuters

আবারও কি ইউরোপ বিতর্ক?

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় বেশি ব্রিটিশ নাগরিক মনে করছেন ব্রেক্সিট একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে অনেকের মতে, এখনই আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিতর্কে জড়িয়ে পড়া দেশের জন্য নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিটেনের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার উন্নয়ন। এসব প্রশ্নের সমাধান না করে শুধু ইউরোপ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করলে আরও একটি দশক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় নতুন বাস্তবতা

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ব্রিটেনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়ার হুমকি এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে প্রতিরক্ষা খাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের ব্যবধান নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্ভাবনা, কিন্তু বিনিয়োগ কম

As Britons grow more unhappy with Brexit, what happens next?

প্রযুক্তি খাতেও ব্রিটেনের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটির শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। জ্বালানি ব্যয়, নীতিগত বাধা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এই খাতের বিকাশকে ধীর করছে।

কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি ব্রিটেন

ব্রিটেনের সরকারি ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক চাপ এখন বড় বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে আরও বেশি মানুষকে কর্মসংস্থানে আনতে হবে, জ্বালানি ব্যয় কমাতে হবে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে।

তাদের মতে, এসব পরিবর্তনের কোনো সহজ সমাধান নেই। প্রতিটি সংস্কারের সঙ্গে কিছু না কিছু ত্যাগ জড়িত। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অর্থনীতি ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে হলে সেই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো এড়ানোর সুযোগ নেই।

দশ বছর পর ব্রেক্সিট বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, একটি মাত্র সিদ্ধান্ত দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তাই অতীতের তর্কে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় কাজ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

ব্রেক্সিটের এক দশক: হারানো সময় পেরিয়ে ভবিষ্যতের পথে ব্রিটেন?

১০:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্তের এক দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের গণভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেওয়ার পর দেশের সামনে যে নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবে দেখা যায়নি। বরং গত ১০ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব কমে যাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময় ব্রিটেনকে একটি নতুন অবস্থান খুঁজে নিতে বাধ্য করেছে। তবে সেই পথচলা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। ফলে দেশটির সামনে বড় প্রশ্ন হলো—অতীতের বিতর্কে আটকে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেবে।

অর্থনীতিতে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক

ব্রেক্সিটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা এবং জাতীয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা। কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল থেকেছে। উৎপাদনশীলতা বাড়েনি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি ব্যয়ও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিটের ফলে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়েছে নতুন নিয়মকানুন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সামলাতে। এতে উন্নয়নমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পিছিয়ে গেছে।

More Brits than ever say Brexit was wrong choice: YouGov survey | Reuters

আবারও কি ইউরোপ বিতর্ক?

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় বেশি ব্রিটিশ নাগরিক মনে করছেন ব্রেক্সিট একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে অনেকের মতে, এখনই আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিতর্কে জড়িয়ে পড়া দেশের জন্য নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিটেনের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার উন্নয়ন। এসব প্রশ্নের সমাধান না করে শুধু ইউরোপ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করলে আরও একটি দশক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় নতুন বাস্তবতা

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ব্রিটেনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়ার হুমকি এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে প্রতিরক্ষা খাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের ব্যবধান নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্ভাবনা, কিন্তু বিনিয়োগ কম

As Britons grow more unhappy with Brexit, what happens next?

প্রযুক্তি খাতেও ব্রিটেনের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটির শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। জ্বালানি ব্যয়, নীতিগত বাধা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এই খাতের বিকাশকে ধীর করছে।

কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি ব্রিটেন

ব্রিটেনের সরকারি ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক চাপ এখন বড় বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে আরও বেশি মানুষকে কর্মসংস্থানে আনতে হবে, জ্বালানি ব্যয় কমাতে হবে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে।

তাদের মতে, এসব পরিবর্তনের কোনো সহজ সমাধান নেই। প্রতিটি সংস্কারের সঙ্গে কিছু না কিছু ত্যাগ জড়িত। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অর্থনীতি ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে হলে সেই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো এড়ানোর সুযোগ নেই।

দশ বছর পর ব্রেক্সিট বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, একটি মাত্র সিদ্ধান্ত দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তাই অতীতের তর্কে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় কাজ।