যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের একটি চিড়িয়াখানায় ঘটে গেছে ভয়াবহ এক ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, এক ব্যক্তি হঠাৎ করে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে কুমিরের ঘেরের ভেতরে ছুড়ে ফেলেন। গুরুতর আহত শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় চিড়িয়াখানার মালিকের স্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু আগে কেমব্রিজশায়ারের ওল্ড হার্স্ট গ্রামের জনসন্স অব ওল্ড হার্স্ট চিড়িয়াখানার ট্রপিক্যাল হাউসে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ একটি জোরালো চিৎকার শোনা যায়। পরে জানা যায়, একটি শিশু কুমিরের ঘেরের ভেতরে পড়ে গেছে।
শিশুর ওপর কুমিরের হামলা
ঘটনার পর জানা যায়, শিশুটির ওপর একটি কুমির আক্রমণ চালায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা জানান, ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের উপযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। পরে তাকে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুটির কোনো পরিচয় ছিল না বলেও জানানো হয়েছে।
সাহসিকতায় প্রাণ বাঁচালেন মালিকের স্ত্রী
চিড়িয়াখানার মালিক অ্যান্ড্রু জনসনের স্ত্রী ট্রেসি জনসন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সরাসরি কুমিরের ঘেরে ঝাঁপ দেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে অ্যান্ড্রু জনসনও সেখানে নেমে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সহায়তা করেন।
প্রাণীকল্যাণ সংগঠন ন্যাশনাল সেন্টার ফর রেপটাইল ওয়েলফেয়ারের পরিচালক ক্রিস নিউম্যান ট্রেসি জনসনের প্রশংসা করে বলেন, শিশুটিকে বাঁচাতে তার এই পদক্ষেপ অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয়। তার দ্রুত সিদ্ধান্তই শিশুটির জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তদন্ত চলছে
ঘটনার পর ট্রপিক্যাল হাউস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চিড়িয়াখানার বাকি অংশ খোলা রয়েছে। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায়। শিশুটির গোপনীয়তা রক্ষায় ঘটনাস্থলের একটি অংশ পর্দা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের আস্থার জায়গা
জনসন পরিবার স্থানীয়ভাবে পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাদের চিড়িয়াখানায় সিংহ, বাঘ, ক্যাপিবারা এবং বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপসহ শতাধিক প্রাণী রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০টি কুমির, অ্যালিগেটর ও কেইম্যান রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জনসন পরিবারের ব্যবসার সুনাম দীর্ঘদিনের। তারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সহায়তা করে থাকেন। অনেক স্থানীয় তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
কেমব্রিজশায়ার পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভেরিটি ম্যাকক্যান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আহত শিশুটি এবং তার পরিবারের পাশে পুলিশ রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
একটি পারিবারিক ভ্রমণ মুহূর্তেই কীভাবে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে, এই ঘটনা তারই মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















