০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

গাছেরও আছে ‘গোপন শ্রবণশক্তি’, প্রতিবেশীর খবর শুনেই বদলায় বেড়ে ওঠার কৌশল

গাছপালা স্থির জীব। তারা হাঁটতে পারে না, জায়গা বদলাতে পারে না। কিন্তু তাই বলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নেই—এমন ধারণা এখন আর টিকছে না। আলো, পানি, পুষ্টি ও পরাগায়নের সুযোগ দখল করতে গাছেরাও এক ধরনের নীরব লড়াই চালায়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গাছ শুধু নিজের পরিবেশই নয়, আশপাশের গাছের অবস্থাও ‘শুনে’ নেয় এবং সেই অনুযায়ী নিজের বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা কৌশল বদলে ফেলে।

গবেষণার নতুন আবিষ্কার

গবেষকরা বহুদিন ধরেই জানতেন, গাছপালা বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। বিশেষ করে কোনো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কিছু রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে আশপাশের গাছ সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে।

তবে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা গাছও কি প্রতিবেশীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষকরা নতুন পরীক্ষা পরিচালনা করেন।

Barley experiment reveals plant science to fifth-graders – UW–Madison News

বার্লি গাছ নিয়ে পরীক্ষা

গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বেড়ে ওঠা তিন ধরনের বার্লি গাছ ব্যবহার করা হয়। একটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, একটি ধীরে এবং অন্যটি মাঝারি গতিতে।

গাছগুলোকে আলাদা চেম্বারে রাখা হয়েছিল, যাতে তারা একে অপরের ওপর ছায়া ফেলতে না পারে। তবে প্রতিটি চেম্বার বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। ফলে এক চেম্বারের বাতাস অন্য চেম্বারে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়।

২৫ দিন ধরে গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেন, প্রতিবেশী গাছের বাতাসের সংস্পর্শে এসে গাছগুলোর আচরণ কীভাবে বদলায়।

অবাক করা ফলাফল

গবেষণায় দেখা যায়, ধীরে বেড়ে ওঠা বার্লি গাছ যখন দ্রুত বাড়তে থাকা গাছের চেম্বার থেকে আসা বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন তার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়। এমনকি তাদের জৈব ভর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়।

গবেষকদের ধারণা, ধীরগতির গাছগুলো বাতাসে থাকা রাসায়নিক সংকেত থেকে বুঝতে পারে যে আশপাশে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতিযোগী রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা দ্রুত বৃদ্ধির দিকে বেশি শক্তি ব্যয় করে।

অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা গাছগুলো যখন ধীরগতির গাছের সংকেত পায়, তখন তাদের বৃদ্ধি কিছুটা কমে যায়। কারণ তাদের আর অতিরিক্ত দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন থাকে না।

Experiment and research on planting barley, as a step in the highlands of  the northern region, chiang mai province, thailand | Premium Photo

বৃদ্ধি নাকি প্রতিরক্ষা—কোথায় বিনিয়োগ?

গাছের টিস্যু বিশ্লেষণ ও জিনগত পরীক্ষা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ধীরগতির গাছগুলো যখন দ্রুত বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয়, তখন তারা শক্তির বড় অংশ সেই কাজেই ব্যয় করে।

বিপরীতে দ্রুতগতির গাছগুলো তুলনামূলক কম বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করে এবং সেই শক্তি প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিক তৈরিতে ব্যবহার করে। এসব রাসায়নিক পাতা পোকামাকড়ের জন্য কম আকর্ষণীয় করে তোলে।

অর্থাৎ গাছ শুধু পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয় না, বরং প্রতিযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের কৌশলও পরিবর্তন করে।

Barley experiment reveals plant science to fifth-graders – UW–Madison News

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

এই আবিষ্কার কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে ফসলকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বৃদ্ধি বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা সম্ভব হতে পারে।

যদি কোনো এলাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে ফসলকে আগে থেকেই প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যেতে পারে। আবার ঝুঁকি কম থাকলে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে ফলনও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, গাছপালার নীরব জগৎ আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, যেখানে তারা একে অপরের খবর রাখে, সংকেত বিশ্লেষণ করে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

গাছেরও আছে ‘গোপন শ্রবণশক্তি’, প্রতিবেশীর খবর শুনেই বদলায় বেড়ে ওঠার কৌশল

১২:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গাছপালা স্থির জীব। তারা হাঁটতে পারে না, জায়গা বদলাতে পারে না। কিন্তু তাই বলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নেই—এমন ধারণা এখন আর টিকছে না। আলো, পানি, পুষ্টি ও পরাগায়নের সুযোগ দখল করতে গাছেরাও এক ধরনের নীরব লড়াই চালায়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গাছ শুধু নিজের পরিবেশই নয়, আশপাশের গাছের অবস্থাও ‘শুনে’ নেয় এবং সেই অনুযায়ী নিজের বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা কৌশল বদলে ফেলে।

গবেষণার নতুন আবিষ্কার

গবেষকরা বহুদিন ধরেই জানতেন, গাছপালা বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। বিশেষ করে কোনো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কিছু রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে আশপাশের গাছ সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে।

তবে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা গাছও কি প্রতিবেশীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষকরা নতুন পরীক্ষা পরিচালনা করেন।

Barley experiment reveals plant science to fifth-graders – UW–Madison News

বার্লি গাছ নিয়ে পরীক্ষা

গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বেড়ে ওঠা তিন ধরনের বার্লি গাছ ব্যবহার করা হয়। একটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, একটি ধীরে এবং অন্যটি মাঝারি গতিতে।

গাছগুলোকে আলাদা চেম্বারে রাখা হয়েছিল, যাতে তারা একে অপরের ওপর ছায়া ফেলতে না পারে। তবে প্রতিটি চেম্বার বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। ফলে এক চেম্বারের বাতাস অন্য চেম্বারে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়।

২৫ দিন ধরে গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেন, প্রতিবেশী গাছের বাতাসের সংস্পর্শে এসে গাছগুলোর আচরণ কীভাবে বদলায়।

অবাক করা ফলাফল

গবেষণায় দেখা যায়, ধীরে বেড়ে ওঠা বার্লি গাছ যখন দ্রুত বাড়তে থাকা গাছের চেম্বার থেকে আসা বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন তার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়। এমনকি তাদের জৈব ভর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়।

গবেষকদের ধারণা, ধীরগতির গাছগুলো বাতাসে থাকা রাসায়নিক সংকেত থেকে বুঝতে পারে যে আশপাশে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতিযোগী রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা দ্রুত বৃদ্ধির দিকে বেশি শক্তি ব্যয় করে।

অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা গাছগুলো যখন ধীরগতির গাছের সংকেত পায়, তখন তাদের বৃদ্ধি কিছুটা কমে যায়। কারণ তাদের আর অতিরিক্ত দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন থাকে না।

Experiment and research on planting barley, as a step in the highlands of  the northern region, chiang mai province, thailand | Premium Photo

বৃদ্ধি নাকি প্রতিরক্ষা—কোথায় বিনিয়োগ?

গাছের টিস্যু বিশ্লেষণ ও জিনগত পরীক্ষা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ধীরগতির গাছগুলো যখন দ্রুত বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয়, তখন তারা শক্তির বড় অংশ সেই কাজেই ব্যয় করে।

বিপরীতে দ্রুতগতির গাছগুলো তুলনামূলক কম বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করে এবং সেই শক্তি প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিক তৈরিতে ব্যবহার করে। এসব রাসায়নিক পাতা পোকামাকড়ের জন্য কম আকর্ষণীয় করে তোলে।

অর্থাৎ গাছ শুধু পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয় না, বরং প্রতিযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের কৌশলও পরিবর্তন করে।

Barley experiment reveals plant science to fifth-graders – UW–Madison News

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

এই আবিষ্কার কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে ফসলকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বৃদ্ধি বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা সম্ভব হতে পারে।

যদি কোনো এলাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে ফসলকে আগে থেকেই প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যেতে পারে। আবার ঝুঁকি কম থাকলে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে ফলনও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, গাছপালার নীরব জগৎ আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, যেখানে তারা একে অপরের খবর রাখে, সংকেত বিশ্লেষণ করে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।