০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে সাইবার হামলা কি যুদ্ধের সমান? আন্তর্জাতিক আইনের নতুন সীমারেখা শাহ মাহমুদ কোরেশি খালাস, ৯ মে মামলায় ইয়াসমিন রশিদসহ চার পিটিআই নেতা ১০ বছরের কারাদণ্ড এআই দুনিয়ায় নতুন শক্তি হতে চায় জেন স্ট্রিট, গোপনীয়তা ভেঙে বিনিয়োগে বড় পদক্ষেপ জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ, ৪৮ বছর পর বড় পরিবর্তন কার্যকর জুলাই থেকে ব্যাংকে বন্ধক রাখা সোনা উধাও! আতঙ্কে হাজারো গ্রাহক, বাড়ছে ক্ষোভ ২০২২ সালে কেমন ছিলো শেরউড অরণ্যের জীবন্ত কিংবদন্তি: হাজার বছরের সাক্ষী মেজর ওক নবায়নযোগ্য জ্বালানির যুগে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ নয়, গ্রিড ইরানের স্থগিত তহবিলে প্রবেশাধিকার, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১৬

হরমুজ প্রণালি খুললেও স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে, নতুন চ্যালেঞ্জে উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারকরা

দীর্ঘ অস্থিরতার পর হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে আবার চালু হতে শুরু করেছে। তবে জলপথটি খুলে গেলেও উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধকালীন বাধার কারণে জমে থাকা তেলের মজুত দ্রুত রপ্তানি করা এবং জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সমঝোতার পর জলপথটি পুনরায় খুলতে শুরু করায় এখন বাজারের নজর ঘুরেছে রপ্তানি ব্যবস্থা কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেদিকে।

জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত

যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ আবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে শুরু করেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে জুন মাসে দৈনিক গড় যাতায়াত প্রায় ১০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এই ধীরগতির কারণে প্রথম ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে। জাহাজ মালিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বীমা ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে দ্রুত তেল লোডিং নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে কয়েক মাস

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধপূর্ব জাহাজ চলাচলের মাত্রা ফিরে আসতে চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, জাহাজগুলো কতটা নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রাখতে পারে কি না।

Hormuz reopening to spark oilfield restart visible from space

সংকটে গুরুত্ব বেড়েছে মজুত সুবিধার

এই সংকট বিশ্বজুড়ে তেল মজুত অবকাঠামোর গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পেরেছে, কৌশলগত মজুত সুবিধা থাকলে বড় ধরনের পরিবহন সংকটেও গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের বৈশ্বিক মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশেষ করে এশিয়ায় বিস্তৃত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে, যা সংকটকালে সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করেছে।

বিকল্প অবকাঠামোর প্রয়োজন বাড়ছে

হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প রুট ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহমুখী রুট কিছুটা সহায়তা করলেও এগুলো হরমুজের পূর্ণ বিকল্প হতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি অবকাঠামোয়। কারণ সাম্প্রতিক সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও জাহাজ চলাচল ও তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লাগতে পারে। নতুন চ্যালেঞ্জে উপসাগরীয় তেল উৎপাদকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

হরমুজ প্রণালি খুললেও স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে, নতুন চ্যালেঞ্জে উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারকরা

০৬:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দীর্ঘ অস্থিরতার পর হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে আবার চালু হতে শুরু করেছে। তবে জলপথটি খুলে গেলেও উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধকালীন বাধার কারণে জমে থাকা তেলের মজুত দ্রুত রপ্তানি করা এবং জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সমঝোতার পর জলপথটি পুনরায় খুলতে শুরু করায় এখন বাজারের নজর ঘুরেছে রপ্তানি ব্যবস্থা কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেদিকে।

জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত

যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ আবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে শুরু করেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে জুন মাসে দৈনিক গড় যাতায়াত প্রায় ১০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এই ধীরগতির কারণে প্রথম ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে। জাহাজ মালিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বীমা ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে দ্রুত তেল লোডিং নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে কয়েক মাস

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধপূর্ব জাহাজ চলাচলের মাত্রা ফিরে আসতে চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, জাহাজগুলো কতটা নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রাখতে পারে কি না।

Hormuz reopening to spark oilfield restart visible from space

সংকটে গুরুত্ব বেড়েছে মজুত সুবিধার

এই সংকট বিশ্বজুড়ে তেল মজুত অবকাঠামোর গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পেরেছে, কৌশলগত মজুত সুবিধা থাকলে বড় ধরনের পরিবহন সংকটেও গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের বৈশ্বিক মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশেষ করে এশিয়ায় বিস্তৃত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে, যা সংকটকালে সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করেছে।

বিকল্প অবকাঠামোর প্রয়োজন বাড়ছে

হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প রুট ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহমুখী রুট কিছুটা সহায়তা করলেও এগুলো হরমুজের পূর্ণ বিকল্প হতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি অবকাঠামোয়। কারণ সাম্প্রতিক সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও জাহাজ চলাচল ও তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লাগতে পারে। নতুন চ্যালেঞ্জে উপসাগরীয় তেল উৎপাদকরা।