০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য রবিন হুডের অন্ধকার অধ্যায়: কিংবদন্তিকে নতুনভাবে দেখাল ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ প্লেভের সাফল্যে উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়ার ভার্চুয়াল আইডল বাজার, একের পর এক নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে সাইবার হামলা কি যুদ্ধের সমান? আন্তর্জাতিক আইনের নতুন সীমারেখা শাহ মাহমুদ কোরেশি খালাস, ৯ মে মামলায় ইয়াসমিন রশিদসহ চার পিটিআই নেতা ১০ বছরের কারাদণ্ড এআই দুনিয়ায় নতুন শক্তি হতে চায় জেন স্ট্রিট, গোপনীয়তা ভেঙে বিনিয়োগে বড় পদক্ষেপ জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ, ৪৮ বছর পর বড় পরিবর্তন কার্যকর জুলাই থেকে ব্যাংকে বন্ধক রাখা সোনা উধাও! আতঙ্কে হাজারো গ্রাহক, বাড়ছে ক্ষোভ

ব্যাংকে বন্ধক রাখা সোনা উধাও! আতঙ্কে হাজারো গ্রাহক, বাড়ছে ক্ষোভ

ব্যাংকে জমা রাখা সোনা নিরাপদ থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই আর্থিক সংকটে পড়লে অনেক মানুষ সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসই বড় ধাক্কা খেয়েছে একটি আলোচিত সোনা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। বন্ধক রাখা গয়না ফেরত নিতে গিয়ে বহু গ্রাহক জানতে পারছেন, তাঁদের জমা রাখা সোনার কিছু অংশ বা পুরো গয়নাই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো পরিবার।

বিশ্বাসের জায়গায় বড় ধাক্কা

ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক, গৃহিণী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকের কাছেই সোনা শুধু সম্পদ নয়, পারিবারিক স্মৃতি, উত্তরাধিকার এবং দুঃসময়ের একমাত্র ভরসা। কেউ কৃষিকাজের খরচ মেটাতে, কেউ চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য, আবার কেউ সংসারের সংকট সামাল দিতে সোনা বন্ধক রেখেছিলেন।

এক নারী জানান, মহামারির সময় চিকিৎসা খরচ চালাতে তিনি মেয়ের দেওয়া একটি সোনার চেইন বন্ধক রেখেছিলেন। ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও পরে জানতে পারেন সেই গয়না আর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

এক কৃষকের অভিযোগে সামনে আসে ঘটনা

পুরো বিষয়টি সামনে আসে এক কৃষকের অভিযোগের পর। তিনি ঋণের বাকি অর্থ পরিশোধ করে সোনা ফেরত নিতে গেলে জানতে পারেন, বন্ধক রাখা একটি সোনার চেইন নিখোঁজ। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ধীরে ধীরে আরও অনেক গ্রাহক নিজেদের নথিপত্র যাচাই করতে শুরু করেন।

খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় করতে থাকেন। প্রথমে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও পরে দেখা যায়, একাধিক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করছেন।

Central banks' gold buying falls 21% in 2025, slips under 1,000 tonnes

বাড়ছে গ্রাহকদের আন্দোলন

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাঁরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই মূল্যবান গয়না জমা দিয়েছিলেন। এখন সেই গয়না ফেরত না পাওয়ায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটও তৈরি হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, তাঁরা ঋণের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যের সোনা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নথিপত্রে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদে যে পরিমাণ সোনার উল্লেখ আছে, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে তার চেয়ে কম পরিমাণ দেখানো হয়েছে।

কত সোনা নিখোঁজ, স্পষ্ট নয়

ঘটনার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কত সোনা নিখোঁজ হয়েছে তা জানায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও স্থানীয় কৃষক নেতাদের ধারণা, কয়েক হাজার গ্রাহকের বন্ধক রাখা সোনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গয়নার হিসাব মিলছে না।

এদিকে বিষয়টি তদন্তে একাধিক যাচাই কার্যক্রম চালানো হয়েছে। গ্রাহকদের নথি ও সোনার প্যাকেট পরীক্ষা করে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নিরীক্ষার মতো একাধিক নিরাপত্তা ধাপ থাকে। তারপরও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু নথিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি এবং তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে এটি শুধুই ব্যক্তিগত অনিয়ম নাকি তদারকির বড় ব্যর্থতা—সেই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণে মিলবে কি সমাধান?

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শুধু অর্থের নয়; এটি বিশ্বাসের সংকট।

তাঁদের কথায়, ব্যাংকে রাখা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ কোথায় ভরসা করবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

বন্ধক রাখা সোনা নিখোঁজের অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহক। ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ তদন্তের দাবিতে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে

ব্যাংকে বন্ধক রাখা সোনা উধাও! আতঙ্কে হাজারো গ্রাহক, বাড়ছে ক্ষোভ

০৭:২৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ব্যাংকে জমা রাখা সোনা নিরাপদ থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই আর্থিক সংকটে পড়লে অনেক মানুষ সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসই বড় ধাক্কা খেয়েছে একটি আলোচিত সোনা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। বন্ধক রাখা গয়না ফেরত নিতে গিয়ে বহু গ্রাহক জানতে পারছেন, তাঁদের জমা রাখা সোনার কিছু অংশ বা পুরো গয়নাই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো পরিবার।

বিশ্বাসের জায়গায় বড় ধাক্কা

ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক, গৃহিণী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকের কাছেই সোনা শুধু সম্পদ নয়, পারিবারিক স্মৃতি, উত্তরাধিকার এবং দুঃসময়ের একমাত্র ভরসা। কেউ কৃষিকাজের খরচ মেটাতে, কেউ চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য, আবার কেউ সংসারের সংকট সামাল দিতে সোনা বন্ধক রেখেছিলেন।

এক নারী জানান, মহামারির সময় চিকিৎসা খরচ চালাতে তিনি মেয়ের দেওয়া একটি সোনার চেইন বন্ধক রেখেছিলেন। ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও পরে জানতে পারেন সেই গয়না আর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

এক কৃষকের অভিযোগে সামনে আসে ঘটনা

পুরো বিষয়টি সামনে আসে এক কৃষকের অভিযোগের পর। তিনি ঋণের বাকি অর্থ পরিশোধ করে সোনা ফেরত নিতে গেলে জানতে পারেন, বন্ধক রাখা একটি সোনার চেইন নিখোঁজ। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ধীরে ধীরে আরও অনেক গ্রাহক নিজেদের নথিপত্র যাচাই করতে শুরু করেন।

খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় করতে থাকেন। প্রথমে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও পরে দেখা যায়, একাধিক গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করছেন।

Central banks' gold buying falls 21% in 2025, slips under 1,000 tonnes

বাড়ছে গ্রাহকদের আন্দোলন

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাঁরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই মূল্যবান গয়না জমা দিয়েছিলেন। এখন সেই গয়না ফেরত না পাওয়ায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটও তৈরি হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, তাঁরা ঋণের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যের সোনা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নথিপত্রে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদে যে পরিমাণ সোনার উল্লেখ আছে, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে তার চেয়ে কম পরিমাণ দেখানো হয়েছে।

কত সোনা নিখোঁজ, স্পষ্ট নয়

ঘটনার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কত সোনা নিখোঁজ হয়েছে তা জানায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও স্থানীয় কৃষক নেতাদের ধারণা, কয়েক হাজার গ্রাহকের বন্ধক রাখা সোনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গয়নার হিসাব মিলছে না।

এদিকে বিষয়টি তদন্তে একাধিক যাচাই কার্যক্রম চালানো হয়েছে। গ্রাহকদের নথি ও সোনার প্যাকেট পরীক্ষা করে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নিরীক্ষার মতো একাধিক নিরাপত্তা ধাপ থাকে। তারপরও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু নথিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি এবং তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে এটি শুধুই ব্যক্তিগত অনিয়ম নাকি তদারকির বড় ব্যর্থতা—সেই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণে মিলবে কি সমাধান?

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শুধু অর্থের নয়; এটি বিশ্বাসের সংকট।

তাঁদের কথায়, ব্যাংকে রাখা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ কোথায় ভরসা করবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

বন্ধক রাখা সোনা নিখোঁজের অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহক। ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ তদন্তের দাবিতে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।