বেলজিয়ামের তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকু প্রথম সন্তানের জন্মের সময় পরিবারের পাশে থাকতে চান। তবে চলমান বিশ্বকাপের মাঝপথে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানানোয় তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির এই ফুটবলার সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী শিরিনের সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য সময় জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ওই সময় টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব চলবে। বেলজিয়াম যদি তখনও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে, তাহলে সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে তিনি দেশে ফিরতে চান।
প্রথম সন্তানের জন্মকে অগ্রাধিকার
২৪ বছর বয়সী ডোকু বলেন, জীবনের প্রথম সন্তানের জন্ম মিস করতে তিনি চান না। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনেক বাস্তবতা ও দায়িত্বও বিবেচনায় নিতে হয়।
তার ভাষায়, প্রথম সন্তানের জন্ম এমন একটি মুহূর্ত যা অধিকাংশ মানুষই হাতছাড়া করতে চাইবে না। তবে তিনি এটাও জানেন যে ফুটবলের সঙ্গে নানা ধরনের দায়িত্ব জড়িত থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কী করা সম্ভব, সেটি পরে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
ফরাসি টেলিভিশন উপস্থাপকের সমালোচনা
ডোকুর এই অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় শুক্রবার। ফরাসি ক্রীড়া চ্যানেল এল’একিপের উপস্থাপক ফ্রান্স পিয়েরোঁ মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপ চলাকালে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া একটি “অগ্রহণযোগ্য” সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি দাবি করেন, সন্তান জন্মের সময় বাবার ভূমিকা সীমিত এবং বিশ্বকাপের মতো বড় আসর ছেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, একজন খেলোয়াড় দীর্ঘ ভ্রমণ করে ফিরে এলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, যা দলের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
সমালোচনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া
পিয়েরোঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। সাবেক ফরাসি বক্সার ব্রাহিম আসলুম বলেন, একটি সন্তান মানুষের পুরো জীবনের অংশ, কিন্তু বিশ্বকাপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিযোগিতা মাত্র। তার মতে, পারিবারিক মুহূর্তের গুরুত্বকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
বিতর্ক বাড়তে থাকলে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন পিয়েরোঁ। তিনি বলেন, বাবাদের ভূমিকা বা গুরুত্ব খাটো করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। বিতর্কিত আলোচনার মধ্যে তিনি ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছিলেন, যা কাউকে আঘাত করে থাকলে তিনি তার জন্য দুঃখিত।
বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অবস্থান
ডোকু ইতোমধ্যে বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলেছেন। মিশরের বিপক্ষে সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। রুডি গার্সিয়ার দল এরপর ইরানের মুখোমুখি হবে, তারপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
ডোকুর সতীর্থ ব্র্যান্ডন মেখেলেও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। যদিও তার স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য সময় জুলাইয়ের আরও পরে।
আগেও দেখা গেছে এমন ঘটনা
আন্তর্জাতিক ফুটবলে পারিবারিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের মাঝখানে দল ছাড়ার ঘটনা নতুন নয়। ফ্রান্সের কিংসলি কোমান দুইবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে সন্তানের জন্ম উপলক্ষে দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন।
ইংল্যান্ডের ফিল ফোডেনও ইউরো ২০২৪ চলাকালে তৃতীয় সন্তানের জন্মের সময় পরিবারের পাশে থাকতে দল থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। একইভাবে লিভারপুলের মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবার্খ গত বছর বাবা হওয়ার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি।
শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য খেলাতেও এমন উদাহরণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসবল তারকা শোহেই ওহতানি সম্প্রতি দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম উপলক্ষে পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে দলের বাইরে ছিলেন।
পারিবারিক দায়িত্ব ও পেশাদার ক্রীড়াজীবনের ভারসাম্য নিয়ে ডোকুর মন্তব্য নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
#জেরেমিডোকু #বেলজিয়াম #ফিফাবিশ্বকাপ #ফুটবল #ম্যানচেস্টারসিটি #বিশ্বকাপ২০২৬ #SportsNews #SarakhonNews
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















