১০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা? উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্র, নকআউট নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন সুপার সাব উন্ডাভের জোড়া গোলে জার্মানির নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত ইমিগ্রেশনের বিশ্বকাপ: ৪৮ দলের মঞ্চে বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের গল্প বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা যুক্তরাজ্যে হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা নেদারল্যান্ডসের দাপুটে জয়, সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে এআই যুগে ‘ভিন্নভাবে চিন্তা করা’ মস্তিষ্কের উত্থান ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এশিয়াজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা, আলোচনায় মেসি-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। শনিবার সাউদাম্পটনে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এক আসরে প্রথমবারের মতো দুটি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে নিগার সুলতানার দল। এই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আশা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা অবশ্য ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৩৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে।

সংকট থেকে লড়াইয়ে ফেরা

সোবহানা মোস্তারি ১৯ বলে ২২ রান করেন। অন্যদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৩৮ বলে ৩৬ রান করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন। পরে রিতু মনি ও নিগারের বিদায়ের পর দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন শোরনা আক্তার।

শেষ দিকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে শোরনা মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তার ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৩ রান সংগ্রহ করে।

নাহিদা-সানজিদার ঘূর্ণিতে পাকিস্তানের পতন

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা ভালোই করেছিল। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৯ রান তুলে ফেলেছিল তারা। তবে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার আঘাত হেনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

তিনি প্রথমে ১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফেরোজাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মুনিবা আলিকেও আউট করেন, যিনি ২৫ রান করেছিলেন। পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর চাপে পড়ে যায় দলটি।

এরপর সানজিদা আক্তার মধ্যক্রমে ধস নামান। এক ওভারেই দুটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে বিপর্যস্ত করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিন উইকেট শিকার করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটারের বাইরে কেবল ফাতিমা সানা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তিনি ১০ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১০০ রান। শেষ ওভারে মারুফা আক্তার বল হাতে জয় নিশ্চিত করেন।

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছিল দলটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় তাদের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই ম্যাচগুলোতেই নির্ধারিত হবে টাইগ্রেসদের শেষ চার নিশ্চিত করার ভাগ্য।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, পাকিস্তান, নিগার সুলতানা, শোরনা আক্তার, নাহিদা আক্তার, সানজিদা আক্তার, ক্রিকেট, Bangladesh Women, Women’s T20 World Cup

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা?

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা

০৮:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। শনিবার সাউদাম্পটনে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এক আসরে প্রথমবারের মতো দুটি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে নিগার সুলতানার দল। এই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আশা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা অবশ্য ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৩৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে।

সংকট থেকে লড়াইয়ে ফেরা

সোবহানা মোস্তারি ১৯ বলে ২২ রান করেন। অন্যদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৩৮ বলে ৩৬ রান করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন। পরে রিতু মনি ও নিগারের বিদায়ের পর দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন শোরনা আক্তার।

শেষ দিকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে শোরনা মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তার ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৩ রান সংগ্রহ করে।

নাহিদা-সানজিদার ঘূর্ণিতে পাকিস্তানের পতন

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা ভালোই করেছিল। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৯ রান তুলে ফেলেছিল তারা। তবে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার আঘাত হেনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

তিনি প্রথমে ১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফেরোজাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মুনিবা আলিকেও আউট করেন, যিনি ২৫ রান করেছিলেন। পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর চাপে পড়ে যায় দলটি।

এরপর সানজিদা আক্তার মধ্যক্রমে ধস নামান। এক ওভারেই দুটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে বিপর্যস্ত করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিন উইকেট শিকার করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটারের বাইরে কেবল ফাতিমা সানা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তিনি ১০ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১০০ রান। শেষ ওভারে মারুফা আক্তার বল হাতে জয় নিশ্চিত করেন।

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছিল দলটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় তাদের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই ম্যাচগুলোতেই নির্ধারিত হবে টাইগ্রেসদের শেষ চার নিশ্চিত করার ভাগ্য।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, পাকিস্তান, নিগার সুলতানা, শোরনা আক্তার, নাহিদা আক্তার, সানজিদা আক্তার, ক্রিকেট, Bangladesh Women, Women’s T20 World Cup