১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

লাতিন আমেরিকায় বিনিয়োগের জোয়ার, ট্রাম্পের নীতির মাঝেই নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ

বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল অঞ্চল গত এক বছরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যিক চাপ ও বিনিয়োগ সংকটের মুখে পড়লেও লাতিন আমেরিকা ভিন্ন এক বাস্তবতার সাক্ষী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা বিতর্ক ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও অঞ্চলটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিদেশি বিনিয়োগে বড় উল্লম্ফন

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রবাহ কমলেও লাতিন আমেরিকায় নতুন মূলধন প্রবেশের ধারা শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ চুক্তির সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে।

আঞ্চলিক শেয়ারবাজারও এই ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার বাজারগুলো অনেক উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স করেছে।

An economist explains: What you need to know about inflation, ETAuto

স্থিতিশীল অর্থনীতি বিনিয়োগ টানছে

বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলের অনেক দেশ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক সংস্কার এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে। গত দুই দশকে ধীর হলেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এই আস্থার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

বিশেষ করে ওষুধশিল্প, আর্থিক প্রযুক্তি এবং খনিজ খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও উন্মুক্ত করায় আন্তর্জাতিক পুঁজি প্রবাহ সহজ হয়েছে।

খনিজ সম্পদে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো এর বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তামা, লিথিয়াম ও বিরল খনিজের বড় অংশ এই অঞ্চলে রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে এসব খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান খনিজ খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। আর্জেন্টিনা, চিলি, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের মতো দেশগুলো নতুন প্রকল্প ও চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Reclaiming U.S. Engagement in Latin America: Strategy Beyond Competition

বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীন এবং ইউরোপীয় দেশগুলিও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার একটি বড় বাণিজ্য জোটের সঙ্গে ইউরোপীয় অংশীদারদের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে পারে।

তবে ঝুঁকিও রয়ে গেছে

সব ইতিবাচক খবরের মাঝেও লাতিন আমেরিকার সামনে বেশ কিছু পুরোনো সমস্যা এখনও বিদ্যমান। ব্রাজিলের সরকারি ব্যয়ের চাপ, আর্জেন্টিনার ঋণনির্ভরতা এবং মেক্সিকোর প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগের কারণ।

এ ছাড়া অবকাঠামোর ঘাটতি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও অনেক দেশে বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান বিনিয়োগ প্রবাহ অনেকটাই বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলে এই গতি কমেও যেতে পারে। তবু আপাতত বিশ্বের উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে লাতিন আমেরিকা বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

লাতিন আমেরিকায় বিনিয়োগের জোয়ার, ট্রাম্পের নীতির মাঝেই নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ

১০:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল অঞ্চল গত এক বছরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যিক চাপ ও বিনিয়োগ সংকটের মুখে পড়লেও লাতিন আমেরিকা ভিন্ন এক বাস্তবতার সাক্ষী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা বিতর্ক ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও অঞ্চলটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিদেশি বিনিয়োগে বড় উল্লম্ফন

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রবাহ কমলেও লাতিন আমেরিকায় নতুন মূলধন প্রবেশের ধারা শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ চুক্তির সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে।

আঞ্চলিক শেয়ারবাজারও এই ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার বাজারগুলো অনেক উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স করেছে।

An economist explains: What you need to know about inflation, ETAuto

স্থিতিশীল অর্থনীতি বিনিয়োগ টানছে

বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলের অনেক দেশ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক সংস্কার এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে। গত দুই দশকে ধীর হলেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এই আস্থার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

বিশেষ করে ওষুধশিল্প, আর্থিক প্রযুক্তি এবং খনিজ খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও উন্মুক্ত করায় আন্তর্জাতিক পুঁজি প্রবাহ সহজ হয়েছে।

খনিজ সম্পদে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো এর বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তামা, লিথিয়াম ও বিরল খনিজের বড় অংশ এই অঞ্চলে রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে এসব খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান খনিজ খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। আর্জেন্টিনা, চিলি, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের মতো দেশগুলো নতুন প্রকল্প ও চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Reclaiming U.S. Engagement in Latin America: Strategy Beyond Competition

বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীন এবং ইউরোপীয় দেশগুলিও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার একটি বড় বাণিজ্য জোটের সঙ্গে ইউরোপীয় অংশীদারদের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে পারে।

তবে ঝুঁকিও রয়ে গেছে

সব ইতিবাচক খবরের মাঝেও লাতিন আমেরিকার সামনে বেশ কিছু পুরোনো সমস্যা এখনও বিদ্যমান। ব্রাজিলের সরকারি ব্যয়ের চাপ, আর্জেন্টিনার ঋণনির্ভরতা এবং মেক্সিকোর প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগের কারণ।

এ ছাড়া অবকাঠামোর ঘাটতি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও অনেক দেশে বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান বিনিয়োগ প্রবাহ অনেকটাই বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলে এই গতি কমেও যেতে পারে। তবু আপাতত বিশ্বের উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে লাতিন আমেরিকা বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।