ঢাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে চ্যালেঞ্জ হতে পারে যে সাত বিষয়
বিবিসি নিউজ বাংলা,
ফ্লাইওভারের ওপর দীর্ঘ যানজট আর নিচে মূল সড়কের পাশ দিয়েই সারিবদ্ধভাবে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার বাস।
নগর পরিবহন, ব্যক্তিগত পরিবহন, সিএনজি অটোরিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশা সব কিছুই জড়ো হয় ফ্লাইওভারের র্যাম্পের আশপাশে।
দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে যারা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন, তাদের কাছে এটি নিয়মিত দৃশ্য।
ঢাকার ভেতরে থাকা অন্য বাস টার্মিনালগুলোর আশপাশের সড়কেও যানজটের এমন দৃশ্য নিয়মিত। এমনিতেই অধিক জনসংখ্যা আর গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকা মহানগরীর সড়কগুলোতে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। এর সঙ্গে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে ওঠা দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো।

আবার বাসের জন্য নির্ধারিত টার্মিনাল এলাকাগুলো ব্যবহার হচ্ছে ডিপো হিসেবে।
এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৫ই জুন, যানজট কমাতে ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যানজট নিরসনে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল ঢাকা বাইরে নেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলছেন, ঢাকার বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে চায় সরকার।
ডেঙ্গু বাড়ছে, রোগী ৫৮ জেলায়, কোথায় বেশি
প্রথম আলো,
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ইতিমধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। যে ছয়টি জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি তার মধ্যে আছে ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর; সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার এবং রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা।

অবশ্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দুই–ই এখনো গত বছরের তুলনায় কম। গত বছর এই সময় পর্যন্ত; অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন রোগী। ওই সময় ডেঙ্গুতে মারা যান ৩০ জন। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে ৪ হাজার ৬৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন ৭ জন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের হাসপাতাল আরও করা হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
‘লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে চলবে ২৫০০ কোটির ইলেকট্রিক বাস
বাংলা ট্রিবিউন,
রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং বায়ুদূষণ রোধে এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎ-চালিত) বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বায়ুর গুণগত মান ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
নগরবাসী বলেছেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ ইতিবাচক। পরিবেশ রক্ষায় এটি নিঃসন্দেহে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তবে পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর বাসের সঙ্গে ইলেকট্রিক বাসের পাল্লা দিয়ে চলা বড্ড বেমানান। তাই ইলেকট্রিক বাস চলাচলের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে রাজধানীর গণপরিবহনের বেহাল দশা সংশোধন করা জরুরি। একইসঙ্গে ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতেও জোর দেওয়ার দাবি তাদের।

রাজধানীতে যত পুরোনো বা লক্করঝক্কর বাস রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে পুরোনো বাসগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।
পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন কীভাবে হবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে— রাজধানী থেকে পুরোনো বাস সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু ধরেই তো তা সম্ভব নয়। এ নিয়ে আবার বাস মালিকদের তোপের মুখে পড়তে হবে। তাই ধীরে ধীরে এ কাজ করা হবে। মানুষ যখন আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা পাবে, তখন এমনিতেই পুরোনো জিনিস বাদ দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে লক্করঝক্কর বাস চলাচল কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সারাবছর রিটার্ন জমার সুযোগ, প্রথম প্রান্তিকে দিলে মিলবে ছাড়
বিডি নিউজ২৪,
নতুন করবর্ষ থেকে ব্যক্তি শ্রেণিতে সারাবছর রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে জমা দিলে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছে সরকার।
আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার নির্দিষ্ট সময় বারবার বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত করদাতা না মেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এজন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশোধন আনা হয়। সেখানে শর্ত সাপেক্ষে কোনো আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী করবর্ষের পুরো সময়জুড়ে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রান্তিক বিবেচনায় কর পরিশোধেরে বিধান আলাদা হবে।

অর্থাৎ, কোন প্রান্তিকে রিটার্ন জমা পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে কর বা প্রণোদনার হিসাব করা হবে।
অর্থবিল ২০২৬ এ বলা হয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা প্রথম প্রান্তিক যদি ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হয়, তাহলে ‘দ্রুত’ রিটার্ন দাখিলের জন্য ৫ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন। তবে ছাড়ের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।
তবে এই কর প্রণোদনা কীভাবে মিলবে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি অর্থবিলে; আয়কর বিশ্লেষকরাও এ নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















