১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াই: পুতিনকে চ্যালেঞ্জ করা এক দীর্ঘ যুদ্ধের গল্প

একসময় পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একজন নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে যায়। নতুন বইয়ে উঠে এসেছে কীভাবে রাশিয়ার বৃহৎ তেল কোম্পানি ইউকোসের পতন এবং এর মালিকদের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের পদক্ষেপ পুতিনের শাসনের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে প্রথম বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়।

মার্টিন সিক্সস্মিথের লেখা বইটি মূলত ইউকোসকে ঘিরে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক জটিল আইনি লড়াইয়ের গল্প। একই সঙ্গে এটি ক্ষমতা, রাজনীতি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার এক বিরল দলিল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ইউকোস

২০০০-এর দশকের শুরুতে ইউকোস ছিল রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি। এর প্রধান মিখাইল খোদোরকোভস্কি তখন দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন। কিন্তু তিনি যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়ন শুরু করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহের ইঙ্গিত দেন, তখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

British Court Allows Yukos Shareholders to Pursue Russian Assets in $65Bln  Dispute - The Moscow Times

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। খোদোরকোভস্কিকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ইউকোসকে ভেঙে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে বিক্রি করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল।

আইনের আদালতে পাল্টা লড়াই

ইউকোসের সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা শুরুতে সমঝোতার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন লন্ডনভিত্তিক কর আইনজীবী টিম ওসবোর্ন।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালত ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানে মামলা চালিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় আদায় করেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে।

সেখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার লঙ্ঘন করে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। এই মামলার রায়ে সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়, যা এ ধরনের মামলার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক রায়।

এখনও মেলেনি ক্ষতিপূরণ

Russia Plans 'Civic Death Law' for Exiled Critics | Human Rights Watch

বছরের পর বছর ধরে আপিল ও আইনি জটিলতা চলার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে রাশিয়ার আপিলের পথ কার্যত শেষ হয়ে যায়। ফলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য রুশ সম্পদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কিছু সীমিত সম্পদ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু জব্দও করা সম্ভব হয়নি। তারপরও লেখকের মতে, এই মামলা শুধু অর্থের বিষয় নয়; এটি ক্ষমতাবান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনের শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বিজয়।

রহস্য ও প্রশ্নের অবসান হয়নি

বইটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পায়নি। বিশেষ করে, সম্ভাব্য ঝুঁকির সতর্কতা পাওয়ার পরও কেন খোদোরকোভস্কি রাশিয়ায় থেকে গিয়েছিলেন, তা এখনো রহস্য হয়ে আছে। এটি কি সরল বিশ্বাস ছিল, নাকি এক ধরনের একগুঁয়েমি, নাকি নিজের অবস্থানের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা— সেই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

তবু বইটির সবচেয়ে বড় বার্তা হলো, রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত ও স্বেচ্ছাচারী পরিবেশে বিনিয়োগ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে ধৈর্য, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা বড়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াই: পুতিনকে চ্যালেঞ্জ করা এক দীর্ঘ যুদ্ধের গল্প

১১:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

একসময় পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একজন নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে যায়। নতুন বইয়ে উঠে এসেছে কীভাবে রাশিয়ার বৃহৎ তেল কোম্পানি ইউকোসের পতন এবং এর মালিকদের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের পদক্ষেপ পুতিনের শাসনের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে প্রথম বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়।

মার্টিন সিক্সস্মিথের লেখা বইটি মূলত ইউকোসকে ঘিরে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক জটিল আইনি লড়াইয়ের গল্প। একই সঙ্গে এটি ক্ষমতা, রাজনীতি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার এক বিরল দলিল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ইউকোস

২০০০-এর দশকের শুরুতে ইউকোস ছিল রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি। এর প্রধান মিখাইল খোদোরকোভস্কি তখন দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন। কিন্তু তিনি যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়ন শুরু করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহের ইঙ্গিত দেন, তখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

British Court Allows Yukos Shareholders to Pursue Russian Assets in $65Bln  Dispute - The Moscow Times

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। খোদোরকোভস্কিকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ইউকোসকে ভেঙে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে বিক্রি করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল।

আইনের আদালতে পাল্টা লড়াই

ইউকোসের সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা শুরুতে সমঝোতার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন লন্ডনভিত্তিক কর আইনজীবী টিম ওসবোর্ন।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালত ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানে মামলা চালিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় আদায় করেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে।

সেখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার লঙ্ঘন করে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। এই মামলার রায়ে সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়, যা এ ধরনের মামলার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক রায়।

এখনও মেলেনি ক্ষতিপূরণ

Russia Plans 'Civic Death Law' for Exiled Critics | Human Rights Watch

বছরের পর বছর ধরে আপিল ও আইনি জটিলতা চলার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে রাশিয়ার আপিলের পথ কার্যত শেষ হয়ে যায়। ফলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য রুশ সম্পদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কিছু সীমিত সম্পদ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু জব্দও করা সম্ভব হয়নি। তারপরও লেখকের মতে, এই মামলা শুধু অর্থের বিষয় নয়; এটি ক্ষমতাবান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনের শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বিজয়।

রহস্য ও প্রশ্নের অবসান হয়নি

বইটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পায়নি। বিশেষ করে, সম্ভাব্য ঝুঁকির সতর্কতা পাওয়ার পরও কেন খোদোরকোভস্কি রাশিয়ায় থেকে গিয়েছিলেন, তা এখনো রহস্য হয়ে আছে। এটি কি সরল বিশ্বাস ছিল, নাকি এক ধরনের একগুঁয়েমি, নাকি নিজের অবস্থানের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা— সেই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

তবু বইটির সবচেয়ে বড় বার্তা হলো, রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত ও স্বেচ্ছাচারী পরিবেশে বিনিয়োগ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে ধৈর্য, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা বড়।