সিঙ্গাপুরের পুলাউ উবিন দ্বীপে জীববৈচিত্র্য নিয়ে দীর্ঘ গবেষণায় এমন দুটি প্রাণীর সন্ধান মিলেছে, যাদের অস্তিত্ব আগে বিশ্বের কোথাও নথিভুক্ত ছিল না। গবেষণার এই ফলাফল নতুন করে প্রমাণ করেছে যে ছোট্ট এই দ্বীপটি এখনও বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে টিকে আছে।
নতুন প্রজাতির সন্ধান
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পরিচালিত বিস্তৃত জরিপে গবেষকেরা একটি নতুন প্রজাতির স্ক্যারাব গুবরে পোকার সন্ধান পান। ‘অ্যানোমালা’ গণভুক্ত এই পোকাটি চেক জাওয়া জলাভূমি এলাকায় পাওয়া যায়। একই গবেষণায় দ্বীপের উপকূলঘেঁষা দ্বিতীয়িক বনাঞ্চল থেকে একটি নতুন প্রজাতির মাকড়সাও শনাক্ত করা হয়।
এই দুটি প্রাণীকে বিজ্ঞান জগতের জন্য নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এমন আবিষ্কার দেখায় যে এখনও প্রকৃতির অনেক রহস্য মানুষের অজানা রয়ে গেছে।
জীববৈচিত্র্যের বিস্তৃত তালিকা
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনলাইন গ্রন্থে পুলাউ উবিনের জীববৈচিত্র্যের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দ্বীপে পাওয়া ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি দেশীয় প্রাণী প্রজাতি এবং ৫৫০টির বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির তথ্য সংকলিত হয়েছে।
প্রকাশনাটিতে উদ্ভিদ, পাখি, মথ, মাকড়সা ও অন্যান্য জীবগোষ্ঠী নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে আগে কখনও নথিভুক্ত না হওয়া ২৬টি প্রাণী প্রজাতিরও তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণার গুরুত্ব
গবেষকদের একজন জানান, নতুন গুবরে পোকাটির সন্ধান পেতে কয়েক বছর ধরে মাঠপর্যায়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। প্রথমে এটি নতুন প্রজাতি কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিল না। পরে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে এর স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে নগরায়নের মধ্যেও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি করেছে।
প্রকৃতির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
গুবরে পোকা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পরাগায়নে সহায়তা করে এবং মৃত জৈব পদার্থ পচিয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বজুড়ে কীটপতঙ্গের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এসব প্রাণীর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, ক্ষুদ্র প্রাণীদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও জানার জন্য ধারাবাহিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
ব্যাঙ সংরক্ষণেও আশার খবর
পুলাউ উবিনে একটি বিরল নিশাচর ব্যাঙের সংরক্ষণ কার্যক্রমও ইতিবাচক ফল দেখাচ্ছে। গত দুই বছরে ব্যাঙের শুশুক ও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য স্থানান্তর এবং কৃত্রিম আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সেখানে ডিম, শুশুক ও নতুন প্রজন্মের ব্যাঙের উপস্থিতি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক জরিপে আগের তুলনায় অনেক বেশি শুশুকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা প্রজাতিটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলাউ উবিনে নতুন প্রজাতির আবিষ্কার এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের সফলতা দেখায় যে সঠিক উদ্যোগ নিলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















