০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াই: ইউকোস মামলা নিয়ে নতুন বইয়ে ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের গল্প রকির লড়াকু মানসিকতায় অনুপ্রাণিত ব্রাজিল, লক্ষ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দাপট স্বপ্নের বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের লোপেস, শিক্ষা আর সাহসেই বদলে গেল জীবন ইয়ামালের কাঁধে স্পেনের ভরসা, সৌদি আরব ম্যাচে প্রথম জয়ের খোঁজে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা জাপানের চোখে জয়, তিউনিসিয়ার ভরসা নতুন কোচ—বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন উড়ছে বিশ্বকাপে, তবু সতর্ক কোচ পচেত্তিনো ব্রাজিলের দাপুটে জয়, প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হাইতির

নতুন মার্কিন শুল্কে অনিশ্চয়তা, আদালতের চ্যালেঞ্জে টিকবে তো ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা?

বিশ্ব বাণিজ্যে আবারও নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ১০ শতাংশ অস্থায়ী আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নতুন এই শুল্কব্যবস্থাও আদালতের কঠোর পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে এবং আগের মতো আইনি বাধার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন শুল্ক পরিকল্পনা কী?

মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ আমদানি আসে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ এবং বৈশ্বিক উৎপাদনে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন শুল্ক আরোপ। প্রশাসনের দাবি, এসব কারণে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

সিঙ্গাপুর কেন আলোচনায়?

Supreme Court won't hear tariff challenge, paving way for new Trump action

নতুন প্রস্তাবের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো সিঙ্গাপুরকে সম্ভাব্য শুল্ক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। মার্কিন পক্ষের অভিযোগ, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

তবে সিঙ্গাপুর এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই সিঙ্গাপুরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের সংশয়

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক আরোপের পেছনে শুধু শ্রমনীতি নয়, বরং রাজস্ব বাড়ানো এবং আগের শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

তাদের মতে, অনেক দেশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত তদন্ত বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আদালতে এসব পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

আদালতে টিকবে কি?

Another rumble in the trade jungle: Will Trump's new tariffs survive a court  challenge? | The Straits Times

এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগের শুল্কের মতো নতুন ব্যবস্থাও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ, এত বিস্তৃত পরিসরে শুল্ক আরোপ সংশ্লিষ্ট আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এবার প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। বিশেষ করে উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে করা তদন্ত আদালতে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলো মামলা করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক আদালতের রায় কয়েক মাসের মধ্যে এলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও এর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাও সেই রায়ের দিকে গভীর নজর রাখছে।

মার্কিন নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের চ্যালেঞ্জই নির্ধারণ করবে এর ভবিষ্যৎ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের

নতুন মার্কিন শুল্কে অনিশ্চয়তা, আদালতের চ্যালেঞ্জে টিকবে তো ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা?

১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্ব বাণিজ্যে আবারও নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ১০ শতাংশ অস্থায়ী আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নতুন এই শুল্কব্যবস্থাও আদালতের কঠোর পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে এবং আগের মতো আইনি বাধার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন শুল্ক পরিকল্পনা কী?

মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ আমদানি আসে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ এবং বৈশ্বিক উৎপাদনে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন শুল্ক আরোপ। প্রশাসনের দাবি, এসব কারণে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

সিঙ্গাপুর কেন আলোচনায়?

Supreme Court won't hear tariff challenge, paving way for new Trump action

নতুন প্রস্তাবের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো সিঙ্গাপুরকে সম্ভাব্য শুল্ক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। মার্কিন পক্ষের অভিযোগ, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

তবে সিঙ্গাপুর এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই সিঙ্গাপুরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের সংশয়

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক আরোপের পেছনে শুধু শ্রমনীতি নয়, বরং রাজস্ব বাড়ানো এবং আগের শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

তাদের মতে, অনেক দেশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত তদন্ত বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আদালতে এসব পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

আদালতে টিকবে কি?

Another rumble in the trade jungle: Will Trump's new tariffs survive a court  challenge? | The Straits Times

এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগের শুল্কের মতো নতুন ব্যবস্থাও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ, এত বিস্তৃত পরিসরে শুল্ক আরোপ সংশ্লিষ্ট আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এবার প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। বিশেষ করে উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে করা তদন্ত আদালতে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলো মামলা করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক আদালতের রায় কয়েক মাসের মধ্যে এলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও এর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাও সেই রায়ের দিকে গভীর নজর রাখছে।

মার্কিন নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের চ্যালেঞ্জই নির্ধারণ করবে এর ভবিষ্যৎ।