১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ভারতের ক্রীড়া পাসপোর্ট পরিকল্পনা: প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য জাতীয় দলে খেলার নতুন সুযোগ?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জার্সিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনার মধ্যেই ভারত সরকার এমন একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিদেশি নাগরিকত্বধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদরা ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

ক্রীড়া পাসপোর্টের প্রস্তাব

ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘ক্রীড়া পাসপোর্ট’ নামে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি নাগরিক হলেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি বা ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদাধারীরা পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ ছাড়াই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

ভারত বর্তমানে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। ফলে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় পাসপোর্ট ত্যাগ করতে হয়। ২০০৮ সাল থেকে শুধুমাত্র ভারতীয় পাসপোর্টধারীরাই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারছেন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতিতে ব্যতিক্রম আনার পথ তৈরি করতে পারে।

কেন আসছে এই উদ্যোগ

Arata Izumi was the first to surrender his Japanese passport to take up Indian citizenship in 2012.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে ভারতের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ভালো ফল করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটবল, বাস্কেটবল ও টেনিসের মতো খেলায় ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি ভারতের। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। এই বিশাল মানবসম্পদকে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই প্রস্তাবটি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সমর্থকদের যুক্তি

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা দক্ষ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় দলগুলোর মান উন্নত করবে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং স্থানীয় খেলোয়াড়রাও উন্নত পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, নীতিমালা চূড়ান্ত হলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ২০ জন বিদেশি খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

সমালোচনাও কম নয়

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীলতা মূল সমস্যার সমাধান নয়। তারা বলছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশে প্রতিভার অভাব নেই; প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ এবং শক্তিশালী তৃণমূল অবকাঠামো।

ভারতের হয়ে খেলা সাবেক ফুটবলার আরাতা ইজুমি মনে করেন, বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আনা সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ কী

প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একদিকে প্রবাসী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য খুলে যাবে নতুন দরজা, অন্যদিকে জাতীয় দলের শক্তি বাড়ানোর নতুন সুযোগ পাবে ভারত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

ভারতের ক্রীড়া পাসপোর্ট পরিকল্পনা: প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য জাতীয় দলে খেলার নতুন সুযোগ?

১২:০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জার্সিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনার মধ্যেই ভারত সরকার এমন একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিদেশি নাগরিকত্বধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদরা ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

ক্রীড়া পাসপোর্টের প্রস্তাব

ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘ক্রীড়া পাসপোর্ট’ নামে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি নাগরিক হলেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি বা ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদাধারীরা পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ ছাড়াই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

ভারত বর্তমানে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। ফলে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় পাসপোর্ট ত্যাগ করতে হয়। ২০০৮ সাল থেকে শুধুমাত্র ভারতীয় পাসপোর্টধারীরাই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারছেন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতিতে ব্যতিক্রম আনার পথ তৈরি করতে পারে।

কেন আসছে এই উদ্যোগ

Arata Izumi was the first to surrender his Japanese passport to take up Indian citizenship in 2012.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে ভারতের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ভালো ফল করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটবল, বাস্কেটবল ও টেনিসের মতো খেলায় ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি ভারতের। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। এই বিশাল মানবসম্পদকে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই প্রস্তাবটি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সমর্থকদের যুক্তি

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা দক্ষ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় দলগুলোর মান উন্নত করবে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং স্থানীয় খেলোয়াড়রাও উন্নত পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, নীতিমালা চূড়ান্ত হলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ২০ জন বিদেশি খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

সমালোচনাও কম নয়

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীলতা মূল সমস্যার সমাধান নয়। তারা বলছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশে প্রতিভার অভাব নেই; প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ এবং শক্তিশালী তৃণমূল অবকাঠামো।

ভারতের হয়ে খেলা সাবেক ফুটবলার আরাতা ইজুমি মনে করেন, বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আনা সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ কী

প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একদিকে প্রবাসী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য খুলে যাবে নতুন দরজা, অন্যদিকে জাতীয় দলের শক্তি বাড়ানোর নতুন সুযোগ পাবে ভারত।