০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস বাবার নীরব ভালোবাসা: স্মৃতি, ত্যাগ আর অটুট বন্ধনের গল্প চালকের উদ্বেগ কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ঝড় তুলেছে প্রোটন বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াই: ইউকোস মামলা নিয়ে নতুন বইয়ে ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের গল্প রকির লড়াকু মানসিকতায় অনুপ্রাণিত ব্রাজিল, লক্ষ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দাপট স্বপ্নের বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের লোপেস, শিক্ষা আর সাহসেই বদলে গেল জীবন ইয়ামালের কাঁধে স্পেনের ভরসা, সৌদি আরব ম্যাচে প্রথম জয়ের খোঁজে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে সমুদ্রতল উঠে এলো ডাঙায়, বদলে গেল শত কিলোমিটার উপকূল

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এমন এক বিরল প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা তাদের বহু বছরের পরিচিত উপকূলরেখাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সমুদ্রের নিচে থাকা প্রবালপ্রাচীর ও সমুদ্রতলের অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে এসে ডাঙায় পরিণত হয়েছে। ফলে বহু এলাকায় উপকূল কয়েকশ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গেছে।

গত ৮ জুন আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণাঞ্চলের মিন্ডানাও দ্বীপ।

মুহূর্তেই বদলে যায় পরিচিত দৃশ্য

সারাঙ্গানি প্রদেশের গ্লান এলাকার জেলে ও ধর্মীয় নেতা আরসেনিও বুটিল জুনিয়র জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে প্রার্থনা করতে থাকেন। পরে চোখ খুলে দেখেন, সমুদ্রের পানি বারবার সরে যাচ্ছে এবং নিচে থাকা প্রবালগুলো ধীরে ধীরে পানির ওপরে উঠে আসছে।

তার ভাষায়, সমুদ্র কয়েক দফা পিছিয়ে যায় এবং আবার ফিরে আসে। সেই সময় অসংখ্য মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। উপকূলের চেনা দৃশ্য মুহূর্তেই অপরিচিত হয়ে ওঠে।

How deadly Philippines earthquake raised seabed and extended shorelines for  hundreds of metres - Yahoo News UK

স্থায়ীভাবে বদলে গেছে উপকূল

ভূকম্পবিদদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতল প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে। এর ফলে কিছু এলাকায় উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি “উপকূলীয় উত্তোলন” নামে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা। পৃথিবীর ভূত্বকের গভীরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এমন পরিবর্তন ঘটে এবং এটি স্থায়ী।

প্রভাবিত এলাকা প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আতঙ্কে ঘরে ফিরছেন না অনেকে

ভূমিকম্পের পর অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড়ি এলাকায় চলে গেছে। একটি গ্রামে প্রায় একশ নারী, পুরুষ ও শিশু এখনো অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে।

Deadly Philippines earthquake found to have raised seabed by up to 2 metres  | Philippines | The Guardian

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সমুদ্রতলের এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে সুনামি বা বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এমন কোনো তাৎক্ষণিক বিপদের কথা বলেননি, তবু ভয় কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।

অনেকের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটিতে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে পুনর্গঠন শুরু করার আগেও মানুষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে।

পর্যটন ও জীবিকায় বড় ধাক্কা

উপকূলের এই নাটকীয় পরিবর্তন স্থানীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও নতুন সংকট তৈরি করেছে। আগে যেখানে সাদা বালুর সৈকত ঘেঁষে গভীর নীল সমুদ্র ছিল, এখন সেখানে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত প্রবালভূমি দেখা যাচ্ছে।

ফলে সাঁতার বা সমুদ্রভিত্তিক বিনোদনের সুযোগ কমে গেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলোও ক্ষতির আশঙ্কা করছে।

অন্যদিকে জেলেদের নৌকা এখন আগের মতো সহজে পানিতে নামানো যাচ্ছে না। মাছ ধরার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

Philippines: Death toll from Philippines quake rises to 61.

থামছে না কম্পন

মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এলাকায় ৮ হাজার ৫০০টির বেশি আফটারশকের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বড় ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই বারবার মাটি কেঁপে ওঠায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে।

ফিলিপাইনের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তি শুধু ধ্বংসই আনে না, কখনো কখনো মুহূর্তের মধ্যে একটি অঞ্চলের ভূগোলও বদলে দিতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে সমুদ্রতল উঠে এলো ডাঙায়, বদলে গেল শত কিলোমিটার উপকূল

১২:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এমন এক বিরল প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা তাদের বহু বছরের পরিচিত উপকূলরেখাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সমুদ্রের নিচে থাকা প্রবালপ্রাচীর ও সমুদ্রতলের অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে এসে ডাঙায় পরিণত হয়েছে। ফলে বহু এলাকায় উপকূল কয়েকশ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গেছে।

গত ৮ জুন আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণাঞ্চলের মিন্ডানাও দ্বীপ।

মুহূর্তেই বদলে যায় পরিচিত দৃশ্য

সারাঙ্গানি প্রদেশের গ্লান এলাকার জেলে ও ধর্মীয় নেতা আরসেনিও বুটিল জুনিয়র জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে প্রার্থনা করতে থাকেন। পরে চোখ খুলে দেখেন, সমুদ্রের পানি বারবার সরে যাচ্ছে এবং নিচে থাকা প্রবালগুলো ধীরে ধীরে পানির ওপরে উঠে আসছে।

তার ভাষায়, সমুদ্র কয়েক দফা পিছিয়ে যায় এবং আবার ফিরে আসে। সেই সময় অসংখ্য মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। উপকূলের চেনা দৃশ্য মুহূর্তেই অপরিচিত হয়ে ওঠে।

How deadly Philippines earthquake raised seabed and extended shorelines for  hundreds of metres - Yahoo News UK

স্থায়ীভাবে বদলে গেছে উপকূল

ভূকম্পবিদদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতল প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে। এর ফলে কিছু এলাকায় উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি “উপকূলীয় উত্তোলন” নামে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা। পৃথিবীর ভূত্বকের গভীরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এমন পরিবর্তন ঘটে এবং এটি স্থায়ী।

প্রভাবিত এলাকা প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আতঙ্কে ঘরে ফিরছেন না অনেকে

ভূমিকম্পের পর অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড়ি এলাকায় চলে গেছে। একটি গ্রামে প্রায় একশ নারী, পুরুষ ও শিশু এখনো অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে।

Deadly Philippines earthquake found to have raised seabed by up to 2 metres  | Philippines | The Guardian

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সমুদ্রতলের এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে সুনামি বা বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এমন কোনো তাৎক্ষণিক বিপদের কথা বলেননি, তবু ভয় কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।

অনেকের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটিতে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে পুনর্গঠন শুরু করার আগেও মানুষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে।

পর্যটন ও জীবিকায় বড় ধাক্কা

উপকূলের এই নাটকীয় পরিবর্তন স্থানীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও নতুন সংকট তৈরি করেছে। আগে যেখানে সাদা বালুর সৈকত ঘেঁষে গভীর নীল সমুদ্র ছিল, এখন সেখানে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত প্রবালভূমি দেখা যাচ্ছে।

ফলে সাঁতার বা সমুদ্রভিত্তিক বিনোদনের সুযোগ কমে গেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলোও ক্ষতির আশঙ্কা করছে।

অন্যদিকে জেলেদের নৌকা এখন আগের মতো সহজে পানিতে নামানো যাচ্ছে না। মাছ ধরার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

Philippines: Death toll from Philippines quake rises to 61.

থামছে না কম্পন

মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এলাকায় ৮ হাজার ৫০০টির বেশি আফটারশকের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বড় ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই বারবার মাটি কেঁপে ওঠায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে।

ফিলিপাইনের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তি শুধু ধ্বংসই আনে না, কখনো কখনো মুহূর্তের মধ্যে একটি অঞ্চলের ভূগোলও বদলে দিতে পারে।