০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াই: ইউকোস মামলা নিয়ে নতুন বইয়ে ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের গল্প রকির লড়াকু মানসিকতায় অনুপ্রাণিত ব্রাজিল, লক্ষ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দাপট স্বপ্নের বিশ্বকাপ মঞ্চে কেপ ভার্দের লোপেস, শিক্ষা আর সাহসেই বদলে গেল জীবন ইয়ামালের কাঁধে স্পেনের ভরসা, সৌদি আরব ম্যাচে প্রথম জয়ের খোঁজে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা জাপানের চোখে জয়, তিউনিসিয়ার ভরসা নতুন কোচ—বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন উড়ছে বিশ্বকাপে, তবু সতর্ক কোচ পচেত্তিনো ব্রাজিলের দাপুটে জয়, প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হাইতির

ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ভর্তুকি বিতর্ক: ধনীরাই পাচ্ছেন বেশি সুবিধা, বাড়ছে আর্থিক চাপ

ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের চেয়ে ধনী পরিবারগুলোই বেশি সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য সমানভাবে জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বেশি কার্যকর হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাবেন।

ধনীদের দখলে ভর্তুকির বড় অংশ

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে জ্বালানি ভর্তুকির বড় একটি অংশ দেশের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর হাতে যাচ্ছে। কারণ ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি কিনতে আয় বা আর্থিক অবস্থার কোনো বাধা নেই। ফলে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরাও একই সুবিধা পাচ্ছেন, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

Indonesia's blanket fuel subsidies favour the rich, say economists | The  Straits Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রির ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পড়ছে। বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন জ্বালানি ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে। এতে অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। তবে সরকার এখনো পাম্প পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে।

নগদ সহায়তার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যভান্ডার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া সম্ভব। এতে ভর্তুকির অর্থ নির্দিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাবে এবং অপচয় কমবে।

Indonesia's blanket fuel subsidies favour the rich, say economists, urging  targeted aid | The Straits Times

তাদের মতে, ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হলে এবং একই সময়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেওয়া হলে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় বাধা

তবে ভর্তুকি সংস্কার সহজ নয়। বহু বছর ধরে কম দামে জ্বালানি পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি এক ধরনের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর যেকোনো উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের খরচও বাড়বে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এ কারণেই সরকার ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Indonesia's shrinkflation belies government's 'strong' fundamentals claim -  Nikkei Asia

সহায়তা বণ্টনেও রয়েছে সমস্যা

নগদ সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি তথ্যভান্ডার হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্ধারণে ভুল হচ্ছে। আবার স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনরা সহায়তা পেলেও প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভর্তুকি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভুল মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই কার্যকর সংস্কারের জন্য শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, তথ্যভান্ডার ও বণ্টন ব্যবস্থারও উন্নতি জরুরি।

ইন্দোনেশিয়ার সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—সবার জন্য ভর্তুকি চালিয়ে যাবে, নাকি সীমিত সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জন্য আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের

ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ভর্তুকি বিতর্ক: ধনীরাই পাচ্ছেন বেশি সুবিধা, বাড়ছে আর্থিক চাপ

১২:১০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের চেয়ে ধনী পরিবারগুলোই বেশি সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য সমানভাবে জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বেশি কার্যকর হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাবেন।

ধনীদের দখলে ভর্তুকির বড় অংশ

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে জ্বালানি ভর্তুকির বড় একটি অংশ দেশের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর হাতে যাচ্ছে। কারণ ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি কিনতে আয় বা আর্থিক অবস্থার কোনো বাধা নেই। ফলে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরাও একই সুবিধা পাচ্ছেন, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

Indonesia's blanket fuel subsidies favour the rich, say economists | The  Straits Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রির ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পড়ছে। বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন জ্বালানি ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে। এতে অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। তবে সরকার এখনো পাম্প পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে।

নগদ সহায়তার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যভান্ডার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া সম্ভব। এতে ভর্তুকির অর্থ নির্দিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাবে এবং অপচয় কমবে।

Indonesia's blanket fuel subsidies favour the rich, say economists, urging  targeted aid | The Straits Times

তাদের মতে, ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হলে এবং একই সময়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেওয়া হলে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় বাধা

তবে ভর্তুকি সংস্কার সহজ নয়। বহু বছর ধরে কম দামে জ্বালানি পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি এক ধরনের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর যেকোনো উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের খরচও বাড়বে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এ কারণেই সরকার ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Indonesia's shrinkflation belies government's 'strong' fundamentals claim -  Nikkei Asia

সহায়তা বণ্টনেও রয়েছে সমস্যা

নগদ সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি তথ্যভান্ডার হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্ধারণে ভুল হচ্ছে। আবার স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনরা সহায়তা পেলেও প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভর্তুকি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভুল মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই কার্যকর সংস্কারের জন্য শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, তথ্যভান্ডার ও বণ্টন ব্যবস্থারও উন্নতি জরুরি।

ইন্দোনেশিয়ার সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—সবার জন্য ভর্তুকি চালিয়ে যাবে, নাকি সীমিত সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জন্য আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।