যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান উন্মোচন করেছেন, যা কাতার সরকারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে। বোয়িং ৭৪৭-৮ মডেলের এই বিশাল বিমানটি ভবিষ্যতে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানটি ইতোমধ্যে সরকারি ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তরের কাজ শেষ করেছে এবং শিগগিরই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করবে।
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এক অনুষ্ঠানে বিমানটির সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি আগের মডেলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড় এবং এটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা আকাশে ভাসমান হোয়াইট হাউসের অভিজ্ঞতা দেবে।
রঙে বদল, নকশায় নতুনত্ব
দশকের পর দশক ধরে ব্যবহৃত হালকা নীল রঙের পরিবর্তে নতুন বিমানটিকে সাদা, গাঢ় লাল ও নেভি নীল রঙে সাজানো হয়েছে। ট্রাম্প জানান, এটি তাঁর পছন্দের নকশা এবং নতুন যুগের সঙ্গে মানানসই আধুনিক চেহারা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বড় আকারের নতুন বিমানগুলো রাখার জন্য সামরিক ঘাঁটিতে আরও বড় হ্যাঙ্গারের প্রয়োজন হবে। আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস ভবনের ওপর দিয়ে বিমানটির বিশেষ উড্ডয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিতর্কের মধ্যেই নতুন অধ্যায়
দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই কাতারের উপহার হিসেবে বিমান গ্রহণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিদেশি প্রভাব, নিরাপত্তা এবং গোপন সরকারি যোগাযোগের উপযোগিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বিমানটিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা সরকারি মিশনের সক্ষমতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।
নতুন বহর আসা পর্যন্ত অস্থায়ী সমাধান
এই বিমানটি মূলত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান বহর ২০২৮ সালে সরবরাহের কথা রয়েছে। সেই সময় পর্যন্ত এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিমানটির রূপান্তর ব্যয় তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সম্পূর্ণ কাজের খরচ কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকবে।
বিদায়ের পথে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান
বর্তমানে ব্যবহৃত প্রেসিডেন্টীয় বিমান দুটি ১৯৯০-এর দশক থেকে দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে একটি বিমান বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। আন্তর্জাতিক নানা সফর ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
সম্প্রতি একটি পুরোনো বিমান তার শেষ আন্তর্জাতিক সফর সম্পন্ন করেছে। ট্রাম্প জানান, দীর্ঘদিনের সেবার পর পুরোনো বিমানটি হয়তো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমানটির বয়স ধরা পড়ছে।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে একটি সফরের সময় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে সামান্য বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটিকে মাঝপথ থেকে ফিরতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নতুন বিমান নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
নতুন এই বোয়িং ৭৪৭-৮ এখন শুধু একটি পরিবহনযান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদ এবং আধুনিক রাষ্ট্রক্ষমতার নতুন প্রতীক হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















