ভারতের কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুরের সাম্প্রতিক কাশ্মীর সফরকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীনগরে সফরকালে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করলেও স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের আঞ্চলিক নেতারা।
শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, শ্রীনগরে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এখনও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিস্থিতিতে উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ
তবে থারুরের এই মন্তব্যের পরই জম্মু ও কাশ্মীর কংগ্রেসের নেতারা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের অভিযোগ, কাশ্মীর সফরে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কিংবা নিজের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাননি।

স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের মতে, কাশ্মীরের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন করে যাওয়া দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর দেখা করা উচিত ছিল।
দল বনাম থারুর বিতর্ক আরও গভীর
কাশ্মীর সফর নিয়ে এই অসন্তোষ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন শশী থারুরের সঙ্গে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তাঁর কিছু মন্তব্য দলীয় মহলে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
থারুর এক বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেসামরিক ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেন।
কিন্তু কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাঁর এই অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, থারুরের বক্তব্যে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরকারি বিবৃতি বা যৌথ ঘোষণায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
নতুন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সমালোচনার জবাবে শশী থারুর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি মন্তব্য করেছেন এবং কোনো তথ্য বিকৃত বা ভুলভাবে উপস্থাপন করেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। তাঁর মতে, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা না করে প্রকৃত উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
কংগ্রেসের ভেতরে মতপার্থক্য স্পষ্ট
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে কংগ্রেসের ভেতরে মতপার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে থারুরের স্বাধীন অবস্থান ও বক্তব্য, অন্যদিকে দলের কিছু নেতার সমালোচনা—সব মিলিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত শশী থারুরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এসব বিতর্ক ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















