ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পানি সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেরিতে বর্ষা শুরু হওয়া এবং জলাধারগুলোর পানির স্তর কমে যাওয়ায় শহরজুড়ে ১০ শতাংশ পানি সরবরাহ কমিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, দ্রুত সম্প্রসারণশীল আবাসন খাত এবং চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলো কতটা প্রভাবিত হবে।
তবে আপাতত বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়। তাদের দাবি, নির্মাণকাজের জন্য সরাসরি নগরীর বিশুদ্ধ পানির ওপর নির্ভরতা এখন অনেক কম। বিকল্প হিসেবে পুনর্ব্যবহৃত পানি, পরিশোধিত বর্জ্যপানি এবং অনুমোদিত উৎস থেকে আনা ট্যাংকারের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিকল্প পানির ওপর নির্ভরতা
আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের মতে, দৈনন্দিন নির্মাণকাজের বেশিরভাগই এখন বিকল্প উৎসের পানিতে পরিচালিত হয়। ফলে পানি সরবরাহে সাময়িক কাটছাঁট হলেও প্রকল্পের কাজ তাৎক্ষণিকভাবে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা কম।
তবে তারা সতর্কও করেছেন। যদি দীর্ঘ সময় ধরে পানি সংকট অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্মাণ ব্যয় বাড়তে পারে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।
জলাধারে কমছে পানির মজুত
শহরের পানির প্রধান উৎস সাতটি জলাধার। এসব জলাধার থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শহরের দৈনিক চাহিদা ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের মাঝামাঝি সময়ে জলাধারগুলোর সম্মিলিত পানি ধারণক্ষমতার মাত্র ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ মজুত ছিল। এক বছর আগে একই সময়ে এ হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি। ফলে প্রশাসনকে পানি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে।
আগস্ট পর্যন্ত স্বস্তি
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান মজুত অনুযায়ী আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত পানীয় জলের সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে। সেই কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই।
![]()
এদিকে শহরের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টি হতে পারে। এতে জলাধারগুলোর পানি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বাইয়ের মূল সমস্যা শুধু কম বৃষ্টি নয়, বরং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও বাড়তে থাকা পানির চাহিদা। শহরে বসবাসের মান উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু পানি ব্যবহারও বাড়ছে।
তাদের মতে, ভবিষ্যতের জন্য শুধু নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করলেই হবে না। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। না হলে আগামী বছরগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে
পানি সংকট মোকাবিলায় সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারযোগ্য করার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাঁধ ও জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সুষম নগর পরিকল্পনার সমন্বয়ই মুম্বাইয়ের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। অন্যথায় দ্রুত নগরায়ণ এবং আবাসন সম্প্রসারণের চাপ শহরের পানি নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















