বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী জানিয়েছেন, বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবির চেয়ে ছোট ও স্বাধীনধারার সিনেমাতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের প্রকৃত আনন্দ ও চ্যালেঞ্জ খুঁজে পান এমন চরিত্রে, যা দর্শকদের চমকে দিতে পারে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘গভর্নর’ নিয়েও কথা বলতে গিয়ে মনোজ বলেন, গত এক দশকে তিনি সচেতনভাবেই স্বাধীনধারার সিনেমার দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। কারণ এই ধরনের কাজ তাঁকে অভিনয়ের নতুন নতুন দিক আবিষ্কার করার সুযোগ দেয়।
স্বাধীনধারার সিনেমার প্রতি টান
মনোজ বাজপেয়ীর ভাষায়, এমন চরিত্রে অভিনয় করতে তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান, যা দেখে কাছের মানুষও অবাক হয়ে যান। নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ার মধ্যেই তিনি বিশেষ তৃপ্তি খুঁজে পান। সেই কারণেই মাঝারি বাজেট বা স্বাধীনধারার সিনেমা তাঁর কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

তিনি বলেন, এই ধরনের কাজের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তু সেই পরিশ্রমই তাঁকে তাড়িত করে। অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিবেদন তাঁকে বারবার এমন প্রকল্পের দিকে নিয়ে যায়।
বড় বাজেটের ছবির প্রস্তাবও আসে
অভিনেতা জানান, বড় বাজেটের ছবির প্রস্তাব তাঁর কাছে নিয়মিতই আসে। সেসব ছবিতে কাজ করার প্রলোভনও থাকে। কারণ সেখানে কাজের চাপ তুলনামূলক কম, আরাম-আয়েশ বেশি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়।
তবে তিনি মজা করে বলেন, অনেক সময় এমন ছবিতে কাজ করা ৪০ থেকে ৫০ দিনের এক ধরনের ‘পিকনিকের’ মতো মনে হয়। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, শুটিংয়ের সময় তিনি সব ক্ষেত্রেই কঠোর পরিশ্রম করেন। কারণ কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁর স্বভাবের অংশ।
বয়সের সঙ্গে বাড়ছে ক্লান্তি
মনোজ স্বীকার করেন, গভীর ও জটিল চরিত্রে অভিনয় করতে মানসিকভাবে অনেক শক্তি ব্যয় হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপও আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তাই কখনও কখনও তিনি ভাবেন, কিছুটা হালকা মেজাজের বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করলে মন্দ হয় না।

তবে আপাতত স্বাধীনধারার সিনেমার প্রতিই তাঁর ঝোঁক বেশি। যদিও ভবিষ্যতে আবার মূলধারার বড় কোনো ছবিতে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
‘গভর্নর’ নিয়ে আলোচনা
মনোজ বাজপেয়ীর নতুন চলচ্চিত্র ‘গভর্নর’ একটি স্বল্প বাজেটের স্বাধীনধারার ছবি। এতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এস. ভেঙ্কিটারামাননের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিতে নব্বইয়ের দশকের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিনয়কেন্দ্রিক ও বাস্তবধর্মী গল্পের প্রতি মনোজের যে দীর্ঘদিনের ঝোঁক, ‘গভর্নর’ তারই আরেকটি উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















