ডিএনএভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ভারতের একটি উদীয়মান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অনাঘা রাজেশের দাবি, ভারতে মেধার অভাব নেই, কিন্তু উচ্চ ঝুঁকির প্রযুক্তি উদ্যোগকে সমর্থন করার মতো পরিবেশ এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
ডিএনএতে তথ্য সংরক্ষণের নতুন উদ্যোগ
অনাঘা রাজেশ প্রতিষ্ঠিত বায়োকম্পিউট এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে, যেখানে প্রচলিত হার্ডওয়্যারের পরিবর্তে ডিএনএ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো তথ্য সংরক্ষণকে আরও ছোট পরিসরে, অধিক দক্ষ এবং কম শক্তিনির্ভর করে তোলা।
প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ভবিষ্যতে বিশাল ডিজিটাল তথ্য ক্ষুদ্র জৈবিক কাঠামোর মধ্যেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই গত দুই বছর ধরে তারা গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
দুই বছরের পথচলা

মাত্র ২৪ বছর বয়সী অনাঘা রাজেশ ২০২৪ সালে বায়োকম্পিউট প্রতিষ্ঠা করেন। গত দুই বছরে তিনি একটি গবেষক দল গড়ে তোলেন, বিনিয়োগ সংগ্রহ করেন, গবেষণাগার স্থাপন করেন এবং হাজারো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএনএ তথ্য সংরক্ষণের মতো জটিল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ভারতে তাদের প্রতিষ্ঠানই প্রথমগুলোর একটি। দেশের বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করে তারা প্রাথমিক সাফল্যও অর্জন করেছে।
কেন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি
প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের প্রথম ডিএনএভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ চিপ তৈরির পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অনাঘা মনে করেন, এই ধাপের জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি উদ্ভাবনী ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়।
তার মতে, সান ফ্রান্সিসকোর প্রযুক্তি অঙ্গনের অনেকেই তাদের প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছেন। সেখানে বিনিয়োগকারী ও অংশীদাররা তাৎক্ষণিক আয়ের চেয়ে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
ঝুঁকি নেওয়ার সংস্কৃতির অভাব
অনাঘা রাজেশের মতে, ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও পরীক্ষিত ধারণার ওপর বেশি জোর দেয়। নতুন ও উচ্চ ঝুঁকির প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রয়োজনীয় সাহসী বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এখনও সীমিত।

তিনি মনে করেন, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বড় সাফল্যের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার দাবি, এই ধরনের সংস্কৃতি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী।
পুঁজি ও জনবল নিয়ে বিতর্ক
প্রযুক্তি খাতের অনেকেই মনে করছেন, ভারতের প্রধান সমস্যা মেধার ঘাটতি নয়। বরং উচ্চাভিলাষী ডিপটেক উদ্যোগের জন্য পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশে দক্ষ গবেষক ও প্রযুক্তিবিদের অভাব নেই। অনেক ভারতীয় বিশেষজ্ঞ বিদেশে কাজ করলেও উপযুক্ত সুযোগ ও বিনিয়োগ পেলে তারা দেশে ফিরে কাজ করতে আগ্রহী। ফলে মূল প্রশ্নটি প্রতিভা নয়, বরং সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।
বেঙ্গালুরু অধ্যায়ের সমাপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে বায়োকম্পিউটকে তাদের বেঙ্গালুরুভিত্তিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। অনাঘা রাজেশ জানিয়েছেন, সহকর্মীদের বিদায় জানানো তার উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
তার মতে, এই দলটি দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নতুন অধ্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সান ফ্রান্সিসকো থেকে তাদের প্রথম ডিএনএ তথ্য সংরক্ষণ চিপ উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়ার কাজে মনোযোগ দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















