০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

বেলারুশকে হুঁশিয়ারি, সীমান্তের যোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংসের হুমকি জেলেনস্কির

ইউক্রেন ও বেলারুশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও বেলারুশকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি যদি রাশিয়াকে সহায়তা বন্ধ না করে, তাহলে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তজুড়ে থাকা কিছু যোগাযোগ টাওয়ার বা রিলে স্টেশন রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে কিয়েভ। তিনি বলেন, বেলারুশ যদি এসব স্থাপনা সরিয়ে না নেয়, তাহলে ইউক্রেন নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বেলারুশকে নতুন বার্তা

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, বেলারুশের মাধ্যমে রাশিয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মিনস্ককে তা বন্ধ করার আহ্বান জানান। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো হুমকি নয়; বরং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।

Zelensky doubles down on ultimatum to Russia's ally ...News

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সীমান্তের ওপারে থাকা কিছু অবকাঠামো রাশিয়ার ড্রোন হামলা ও সামরিক সমন্বয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে কিয়েভ এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।

লুকাশেঙ্কোর পাল্টা অবস্থান

অন্যদিকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বারবার বলে আসছেন, তার দেশের কোনো যুদ্ধ শুরু করার ইচ্ছা নেই এবং বেলারুশ কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, কেউ যদি বেলারুশকে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার মূল্য দিতে হবে।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি ইউক্রেনের কাছে বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যাও দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বেলারুশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা উচিত হবে না।

সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত প্রতিযোগিতা

ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, বেলারুশের ভেতরে থাকা বহু কৌশলগত ও লজিস্টিক স্থাপনার অবস্থান তাদের নজরদারিতে রয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে।

Russia-Ukraine war at a glance: what we know on day 375 of the invasion |  Ukraine | The Guardian

বেলারুশের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাদের দেশের জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় অযথা কোনো সংঘাতে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। তবে দেশটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখন প্রতিবেশী দেশগুলোকেও নতুন করে চাপের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বেলারুশকে ঘিরে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

জেলেনস্কির নতুন মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও নজরে রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

বেলারুশকে হুঁশিয়ারি, সীমান্তের যোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংসের হুমকি জেলেনস্কির

১২:২৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ইউক্রেন ও বেলারুশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও বেলারুশকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি যদি রাশিয়াকে সহায়তা বন্ধ না করে, তাহলে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তজুড়ে থাকা কিছু যোগাযোগ টাওয়ার বা রিলে স্টেশন রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে কিয়েভ। তিনি বলেন, বেলারুশ যদি এসব স্থাপনা সরিয়ে না নেয়, তাহলে ইউক্রেন নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বেলারুশকে নতুন বার্তা

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, বেলারুশের মাধ্যমে রাশিয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মিনস্ককে তা বন্ধ করার আহ্বান জানান। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো হুমকি নয়; বরং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।

Zelensky doubles down on ultimatum to Russia's ally ...News

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সীমান্তের ওপারে থাকা কিছু অবকাঠামো রাশিয়ার ড্রোন হামলা ও সামরিক সমন্বয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে কিয়েভ এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।

লুকাশেঙ্কোর পাল্টা অবস্থান

অন্যদিকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বারবার বলে আসছেন, তার দেশের কোনো যুদ্ধ শুরু করার ইচ্ছা নেই এবং বেলারুশ কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, কেউ যদি বেলারুশকে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার মূল্য দিতে হবে।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি ইউক্রেনের কাছে বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যাও দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বেলারুশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা উচিত হবে না।

সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত প্রতিযোগিতা

ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, বেলারুশের ভেতরে থাকা বহু কৌশলগত ও লজিস্টিক স্থাপনার অবস্থান তাদের নজরদারিতে রয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে।

Russia-Ukraine war at a glance: what we know on day 375 of the invasion |  Ukraine | The Guardian

বেলারুশের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাদের দেশের জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় অযথা কোনো সংঘাতে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। তবে দেশটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখন প্রতিবেশী দেশগুলোকেও নতুন করে চাপের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বেলারুশকে ঘিরে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

জেলেনস্কির নতুন মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও নজরে রয়েছে।