বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পেনশন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে জার্মানি বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে। সরকারের বিবেচনায় থাকা নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটিতে ধীরে ধীরে অবসরের বয়স ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৭০ বছরে নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে জনপ্রিয় আগাম অবসর সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার-নিযুক্ত একটি কমিশন সম্প্রতি পেনশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃত সুপারিশ তৈরি করেছে। এসব সুপারিশের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে পেনশন তহবিলকে টেকসই রাখা এবং শ্রমবাজারে অভিজ্ঞ কর্মীদের আরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাখা।
অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব
নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গড় আয়ুষ্কালের সঙ্গে অবসরের বয়সকে যুক্ত করা। এর ফলে মানুষের আয়ু যত বাড়বে, অবসরের বয়সও ধাপে ধাপে বাড়তে পারে। বর্তমান ৬৭ বছরের সীমা একসময় ৭০ বছরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের জনসংখ্যা কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ নাগরিক অবসরে যাচ্ছেন, কিন্তু কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না। ফলে পেনশন ব্যবস্থার ওপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আগাম অবসর সুবিধা বাতিলের চিন্তা
বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে অবদান রাখা অনেক কর্মী নির্দিষ্ট শর্তে আগেভাগে অবসরে যাওয়ার সুযোগ পান। নতুন সংস্কার কার্যকর হলে এই সুবিধা বাতিল হতে পারে।
কমিশনের মতে, আগাম অবসর গ্রহণের ফলে পেনশন তহবিলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
কর্মী ও নিয়োগকর্তার বাড়তি অবদান
প্রস্তাবিত সংস্কারের আরেকটি অংশে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক অবদানের বিষয় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলে বেতনের অতিরিক্ত ২ শতাংশ জমা দিতে হতে পারে।

এই তহবিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পেনশন ব্যয়ের চাপ মোকাবিলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হবে।
জনসংখ্যাগত চাপে সংস্কারের উদ্যোগ
জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত সমস্যার মুখোমুখি। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে প্রচলিত পেনশন কাঠামো বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
সরকার মনে করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক কল্যাণব্যবস্থাকে আগের মতো পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সংস্কার প্রয়োজন।
তবে অবসরের বয়স বাড়ানো এবং আগাম অবসর সুবিধা বাতিলের মতো পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব পরিবর্তন কর্মজীবী মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পেনশন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















