ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির জনগণের একটি বড় অংশ আগের তুলনায় রাজতন্ত্র নিয়ে কম আগ্রহী, আর তরুণদের মধ্যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রাজতন্ত্রের প্রতি কমছে আস্থা
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৫৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেন। এক সময় এই সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাজতন্ত্রের অবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছে।
জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই মনে করেন, আধুনিক ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়া উচিত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

তরুণদের মধ্যে প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ঝোঁক
১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ব্রিটিশদের মধ্যে রাজতন্ত্রের সমর্থন সবচেয়ে কম। এই বয়সী জনগোষ্ঠীর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে প্রায় অর্ধেক তরুণ মনে করেন, যুক্তরাজ্য প্রজাতন্ত্রে পরিণত হলে দেশ আরও ভালোভাবে পরিচালিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যের চেয়ে জবাবদিহি ও নির্বাচিত নেতৃত্বের ধারণাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে।
রাজা ও উত্তরাধিকারীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনও শক্তিশালী
রাজতন্ত্রের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা কমলেও রাজা তৃতীয় চার্লস এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের প্রতি জনসন্তুষ্টি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জরিপে বেশিরভাগ উত্তরদাতা তাদের দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
এতে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজতন্ত্র নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থাকলেও রাজপরিবারের কিছু সদস্যের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এখনও উল্লেখযোগ্য।
বিতর্কের প্রভাব

রাজপরিবারের এক সদস্যকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কও রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্তকে কেন্দ্র করে রাজপরিবারকে বেশ কয়েকবার জনসমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা রাজতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদেশেও কমছে প্রভাব
ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আন্তর্জাতিক প্রভাবও আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। সাবেক কয়েকটি উপনিবেশ ইতোমধ্যে নিজেদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আরও কিছু দেশ ভবিষ্যতে একই পথে হাঁটার বিষয়ে আলোচনা করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং জাতীয় পরিচয়ের নতুন ব্যাখ্যা রাজতন্ত্রকেন্দ্রিক সম্পর্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে।
রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটিশ রাজতন্ত্র এখনো দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জনসমর্থনের ধারাবাহিক পতন ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণে রাজতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















