০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল ফিলিপাইন ডিমের দামে ধস, বিপাকে মার্কিন খামারিরা এফবিআই প্রধানের একের পর এক মানহানি মামলা, চাপে মার্কিন সংবাদমাধ্যম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশের চেষ্টা নস্যাৎ: ডিএমপি কমিশনার নিউট্রিশনের ‘সুইট স্পট’: প্রোটিন ও ফাইবার একসঙ্গে মিলবে যে ৫ খাবারে নেতৃত্ব বদলালেই কি বদলাবে রাজনীতি? অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে ব্রিটেনের নতুন পরীক্ষার মুহূর্ত চীনের সিদ্ধান্তেই কি নির্ধারিত হবে তেলের ভবিষ্যৎ দাম? বাংলাদেশ চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে, চূড়ান্ত চুক্তির পথে ঢাকা-বেইজিং কোটাক মহিন্দ্রার বড় লক্ষ্য: অধিগ্রহণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে ভারতের শীর্ষ তিন বেসরকারি ব্যাংকের কাতারে উঠতে চায় রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের চাপ, অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বাড়ছে ঝুঁকি

দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা শিল্পে শঙ্কা, মেগাবক্স সংকটে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ মাল্টিপ্লেক্স চেইন মেগাবক্স আর্থিক সংকটে পড়ায় দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সমস্যাটি শুধু একটি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিতরণ ব্যবস্থায়।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের তিন প্রধান মাল্টিপ্লেক্স অপারেটরের একটি হিসেবে মেগাবক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি এর বিনিয়োগ ও বিতরণ কার্যক্রমও কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অস্থিরতা পুরো খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংকটের সূত্রপাত

সম্প্রতি মেগাবক্সের মূল গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদালতের মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আবেদন করে। এর আগে গ্রুপটির একটি প্রধান গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনার পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করে।

A Korean media empire is unraveling. The movie business is paying the price  - The Korea Herald

যদিও বর্তমানে মেগাবক্সের সিনেমা হলগুলো স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে, তবু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় কাটেনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র প্রযোজনা, বিপণন এবং বিতরণের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চিন্তিত।

পুরো শিল্পব্যবস্থার ওপর প্রভাবের আশঙ্কা

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, মেগাবক্সের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব শুধু দর্শক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, বিপণন সংস্থা এবং শুটিং ইউনিট—সবার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সিনেমা হল ও পরিবেশকদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন। আদালত-নিয়ন্ত্রিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালে অর্থ পরিশোধ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

মহামারির পরও কাটেনি সংকট

কোরিয়ার সিনেমা শিল্প এখনও মহামারির আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। দর্শকদের একটি বড় অংশ এখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন দেখার দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক ব্যবসা ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে।

Colony' sweeps box office charts across Asia - The Korea Times

গত বছর দেশটির প্রেক্ষাগৃহ খাতের মোট আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সিনেমা দেখতে হলে যাওয়া দর্শকের সংখ্যাও মহামারিপূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে মেগাবক্স তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একীভূত হওয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তায়

মেগাবক্সের সংকটের কারণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মেগাবক্স ও আরেক বড় মাল্টিপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার আলোচনা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চলচ্চিত্র খাতের অনেকেই মনে করছিলেন, এই একীভূতকরণ হলে সংকটে থাকা প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা কিছুটা গতি পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের অনেকের মতে, মেগাবক্সের ভবিষ্যৎ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; বরং এটি দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো সিনেমা শিল্পের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল ফিলিপাইন

দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা শিল্পে শঙ্কা, মেগাবক্স সংকটে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

০১:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ মাল্টিপ্লেক্স চেইন মেগাবক্স আর্থিক সংকটে পড়ায় দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সমস্যাটি শুধু একটি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিতরণ ব্যবস্থায়।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের তিন প্রধান মাল্টিপ্লেক্স অপারেটরের একটি হিসেবে মেগাবক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি এর বিনিয়োগ ও বিতরণ কার্যক্রমও কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অস্থিরতা পুরো খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংকটের সূত্রপাত

সম্প্রতি মেগাবক্সের মূল গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদালতের মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আবেদন করে। এর আগে গ্রুপটির একটি প্রধান গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনার পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করে।

A Korean media empire is unraveling. The movie business is paying the price  - The Korea Herald

যদিও বর্তমানে মেগাবক্সের সিনেমা হলগুলো স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে, তবু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় কাটেনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র প্রযোজনা, বিপণন এবং বিতরণের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চিন্তিত।

পুরো শিল্পব্যবস্থার ওপর প্রভাবের আশঙ্কা

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, মেগাবক্সের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব শুধু দর্শক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, বিপণন সংস্থা এবং শুটিং ইউনিট—সবার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সিনেমা হল ও পরিবেশকদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন। আদালত-নিয়ন্ত্রিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালে অর্থ পরিশোধ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

মহামারির পরও কাটেনি সংকট

কোরিয়ার সিনেমা শিল্প এখনও মহামারির আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। দর্শকদের একটি বড় অংশ এখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন দেখার দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক ব্যবসা ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে।

Colony' sweeps box office charts across Asia - The Korea Times

গত বছর দেশটির প্রেক্ষাগৃহ খাতের মোট আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সিনেমা দেখতে হলে যাওয়া দর্শকের সংখ্যাও মহামারিপূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে মেগাবক্স তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একীভূত হওয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তায়

মেগাবক্সের সংকটের কারণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মেগাবক্স ও আরেক বড় মাল্টিপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার আলোচনা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চলচ্চিত্র খাতের অনেকেই মনে করছিলেন, এই একীভূতকরণ হলে সংকটে থাকা প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা কিছুটা গতি পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের অনেকের মতে, মেগাবক্সের ভবিষ্যৎ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; বরং এটি দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো সিনেমা শিল্পের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।