০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর হাইলাইট: ২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে কী প্রতিদান দেন শিক্ষার্থীরা, চালকের প্রশ্ন শুধু অর্থনীতি নয়, ভারত-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সভ্যতার বন্ধন গৃহকর্মীর জীবন কি এতটাই সস্তা? মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি, সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও বিনিয়োগে নতুন অগ্রগতি দুই দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে যোগ হলো ৪,৪৩২ টাকা গাজীপুরে জলাবদ্ধতার মধ্যে খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল তরুণীর মোহাম্মদ সালাহর ইতিহাস গড়া রাত, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নতুন উচ্চতায় মিসর বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মাতোয়ারা বিশ্ব, গাছের ডাল থেকে সুইমিং পুল—সবখানেই ফুটবলের উৎসব কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত মাদকবিরোধী প্রতিবাদকারী

ষাট বছর পরও কেন থামছে না আমেরিকার বর্ণবৈষম্য বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস শুধু প্রতিবাদ, বক্তৃতা বা আইন পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য, ক্ষোভ, দাঙ্গা এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক জটিল অধ্যায়। ষাট বছর আগে শুরু হওয়া ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ আন্দোলন আজও আমেরিকার রাজনীতি ও সমাজে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বর্ণসমতার সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক দশকের পর দশক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে তাদের জন্য নানা অঘোষিত বাধা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কাগজে-কলমে সমান অধিকার থাকলেও বাস্তব জীবনে সেই অধিকার ভোগ করা ছিল কঠিন।

দাঙ্গা থেকে আন্দোলনের বিস্তার

ষাটের দশকে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ একাধিক দাঙ্গার মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়। পুলিশের হাতে এক কিশোর কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর পর নিউইয়র্কের হারলেমে যে অস্থিরতা শুরু হয়, তা পরবর্তী কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

Black History Milestones: Timeline | HISTORY

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ১৯৬৮ সালে নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডের পর। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনা।

‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ ধারণার উত্থান

১৯৬৬ সালে ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ স্লোগান নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আন্দোলনের নেতারা কৃষ্ণাঙ্গদের নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়া।

এই সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে।

প্রতীকের শক্তি

১৯৬৮ সালের অলিম্পিক গেমসে দুই কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটের প্রতিবাদী ভঙ্গি আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তারা মাথা নত করে এবং মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

The Timeless Appeal of Tommie Smith, Who Knew a Podium Could Be a Site of  Protest - The New York Times

তবে আন্দোলনের ভেতরে সব পক্ষ একই কৌশলে বিশ্বাস করত না। কেউ কেউ শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন, আবার কিছু সংগঠন আরও কঠোর ও বিপ্লবী পথ বেছে নেয়। এর ফলে আন্দোলনের ভেতরেও মতপার্থক্য তৈরি হয়।

কী বদলেছে, কী বদলায়নি

ব্ল্যাক পাওয়ার যুগের পর যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক আইন বাতিল হয়েছে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় নতুন আইন তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।

তবু বৈষম্য, প্রতিনিধিত্বের সংকট এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো নতুন করে জাতিগত ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণপ্রশ্ন এত দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ঘটনা বিরল। তাই ষাট বছর পরও ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ আন্দোলনের উত্তরাধিকার আমেরিকার সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর

ষাট বছর পরও কেন থামছে না আমেরিকার বর্ণবৈষম্য বিতর্ক

০১:১৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস শুধু প্রতিবাদ, বক্তৃতা বা আইন পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য, ক্ষোভ, দাঙ্গা এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক জটিল অধ্যায়। ষাট বছর আগে শুরু হওয়া ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ আন্দোলন আজও আমেরিকার রাজনীতি ও সমাজে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বর্ণসমতার সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক দশকের পর দশক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে তাদের জন্য নানা অঘোষিত বাধা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কাগজে-কলমে সমান অধিকার থাকলেও বাস্তব জীবনে সেই অধিকার ভোগ করা ছিল কঠিন।

দাঙ্গা থেকে আন্দোলনের বিস্তার

ষাটের দশকে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ একাধিক দাঙ্গার মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়। পুলিশের হাতে এক কিশোর কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর পর নিউইয়র্কের হারলেমে যে অস্থিরতা শুরু হয়, তা পরবর্তী কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

Black History Milestones: Timeline | HISTORY

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ১৯৬৮ সালে নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডের পর। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনা।

‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ ধারণার উত্থান

১৯৬৬ সালে ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ স্লোগান নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আন্দোলনের নেতারা কৃষ্ণাঙ্গদের নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়া।

এই সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে।

প্রতীকের শক্তি

১৯৬৮ সালের অলিম্পিক গেমসে দুই কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটের প্রতিবাদী ভঙ্গি আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তারা মাথা নত করে এবং মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

The Timeless Appeal of Tommie Smith, Who Knew a Podium Could Be a Site of  Protest - The New York Times

তবে আন্দোলনের ভেতরে সব পক্ষ একই কৌশলে বিশ্বাস করত না। কেউ কেউ শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন, আবার কিছু সংগঠন আরও কঠোর ও বিপ্লবী পথ বেছে নেয়। এর ফলে আন্দোলনের ভেতরেও মতপার্থক্য তৈরি হয়।

কী বদলেছে, কী বদলায়নি

ব্ল্যাক পাওয়ার যুগের পর যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক আইন বাতিল হয়েছে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় নতুন আইন তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।

তবু বৈষম্য, প্রতিনিধিত্বের সংকট এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো নতুন করে জাতিগত ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণপ্রশ্ন এত দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ঘটনা বিরল। তাই ষাট বছর পরও ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ আন্দোলনের উত্তরাধিকার আমেরিকার সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে রয়েছে।