০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর হাইলাইট: ২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে কী প্রতিদান দেন শিক্ষার্থীরা, চালকের প্রশ্ন শুধু অর্থনীতি নয়, ভারত-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সভ্যতার বন্ধন গৃহকর্মীর জীবন কি এতটাই সস্তা? মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি, সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও বিনিয়োগে নতুন অগ্রগতি দুই দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে যোগ হলো ৪,৪৩২ টাকা গাজীপুরে জলাবদ্ধতার মধ্যে খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল তরুণীর মোহাম্মদ সালাহর ইতিহাস গড়া রাত, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নতুন উচ্চতায় মিসর বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মাতোয়ারা বিশ্ব, গাছের ডাল থেকে সুইমিং পুল—সবখানেই ফুটবলের উৎসব কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত মাদকবিরোধী প্রতিবাদকারী

কোরিয়ান সিনেমায় প্রথম প্রেম ও পারিবারিক গোপন রহস্যের আবেগঘন গল্প ‘সামার্স ক্যামেরা’

প্রথম প্রেমের মায়া, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং অতীতের অজানা সত্যকে এক সুতোয় গেঁথে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে নতুন কোরিয়ান চলচ্চিত্র ‘সামার্স ক্যামেরা’। নির্মাতা ডিভাইন সাংয়ের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার এটি মুক্তি পাচ্ছে স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে।

কাহিনির কেন্দ্রে সামার

চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্র সামার, একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর সে প্রায় পুরোপুরি বদলে যায়। একসময় ছবি তুলতে ভালোবাসলেও বাবাকে হারানোর শোক তাকে ক্যামেরা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবু বাবার পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরাটি সবসময় তার সঙ্গে থাকে। ক্যামেরার ফিল্মে বাকি থাকা চারটি ছবিও সে তুলতে পারে না।

এক গ্রীষ্মের দিনে স্কুলে ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ইয়ন-উর সঙ্গে পরিচয়ের পর সামারের জীবনে নতুন আলো আসে। মেয়েটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে সে আবার ক্যামেরা হাতে নেয় এবং ইয়ন-উর বিভিন্ন মুহূর্ত বন্দি করতে শুরু করে।

Actors Kim Si-a, right, and Kwak Min-gyu in a scene from “Summer’s Camera’ / Courtesy of Sidus

অতীতের অজানা দরজা

গল্পে মোড় আসে যখন সামার পুরোনো ফিল্মে কিছু রহস্যময় ছবি খুঁজে পায়। ছবিগুলোতে দেখা যায় মারু নামের এক ব্যক্তিকে। ধীরে ধীরে সে জানতে পারে, তার বাবার কৈশোরে মারুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল।

এই তথ্য সামারের কাছে এক বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বাবার অতীত সম্পর্কে আরও জানতে সে নিজেই অনুসন্ধান শুরু করে। বর্তমানে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করা মারুর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ গড়ে তোলে সে।

মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করে সামার নিজের মধ্যেই এই সত্য লুকিয়ে রাখে। সময়ের সঙ্গে মারু তার বন্ধু ও পথপ্রদর্শকে পরিণত হন। বাবার অতীত এবং নিজের আবেগকে বুঝতে মারু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রেম, স্মৃতি ও বেড়ে ওঠার গল্প

চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি হলো দুই প্রজন্মের ভালোবাসার গল্পকে সমান্তরালে তুলে ধরা। সামার ও ইয়ন-উর সম্পর্ক যেমন ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তেমনি অতীতের স্মৃতিতে উঠে আসে সামারের বাবা ও মারুর সম্পর্কের গল্প।

Summer's Camera

সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও নির্মাতা এটিকে কোনো বিতর্ক বা সংঘাতের দিকে নিয়ে যাননি। বরং গল্পটি ব্যক্তিগত অনুভূতি, স্মৃতি এবং আত্ম-অন্বেষণের পথে এগিয়েছে। ফলে চলচ্চিত্রটি হয়ে উঠেছে কোমল, মানবিক এবং আশাবাদী।

অভিনয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

সামার চরিত্রে কিম সি-আর অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। প্রথম প্রেমের সরল অনুভূতি, বিভ্রান্তি এবং মানসিক পরিবর্তনকে তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ইয়ন-উ চরিত্রে ইউ গা-ইনের উপস্থিতিও গল্পে প্রাণ এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে মারু চরিত্রে কওয়াক মিন-গ্যু চলচ্চিত্রটিতে আবেগের গভীরতা যোগ করেছেন। তার সংযত অভিনয় সামারের মানসিক যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

মুক্তির আগেই ‘সামার্স ক্যামেরা’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি এটি বিশ্বের ৩৪টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আগামী ২৪ জুন চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর

কোরিয়ান সিনেমায় প্রথম প্রেম ও পারিবারিক গোপন রহস্যের আবেগঘন গল্প ‘সামার্স ক্যামেরা’

০১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

প্রথম প্রেমের মায়া, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং অতীতের অজানা সত্যকে এক সুতোয় গেঁথে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে নতুন কোরিয়ান চলচ্চিত্র ‘সামার্স ক্যামেরা’। নির্মাতা ডিভাইন সাংয়ের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার এটি মুক্তি পাচ্ছে স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে।

কাহিনির কেন্দ্রে সামার

চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্র সামার, একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর সে প্রায় পুরোপুরি বদলে যায়। একসময় ছবি তুলতে ভালোবাসলেও বাবাকে হারানোর শোক তাকে ক্যামেরা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবু বাবার পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরাটি সবসময় তার সঙ্গে থাকে। ক্যামেরার ফিল্মে বাকি থাকা চারটি ছবিও সে তুলতে পারে না।

এক গ্রীষ্মের দিনে স্কুলে ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ইয়ন-উর সঙ্গে পরিচয়ের পর সামারের জীবনে নতুন আলো আসে। মেয়েটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে সে আবার ক্যামেরা হাতে নেয় এবং ইয়ন-উর বিভিন্ন মুহূর্ত বন্দি করতে শুরু করে।

Actors Kim Si-a, right, and Kwak Min-gyu in a scene from “Summer’s Camera’ / Courtesy of Sidus

অতীতের অজানা দরজা

গল্পে মোড় আসে যখন সামার পুরোনো ফিল্মে কিছু রহস্যময় ছবি খুঁজে পায়। ছবিগুলোতে দেখা যায় মারু নামের এক ব্যক্তিকে। ধীরে ধীরে সে জানতে পারে, তার বাবার কৈশোরে মারুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল।

এই তথ্য সামারের কাছে এক বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বাবার অতীত সম্পর্কে আরও জানতে সে নিজেই অনুসন্ধান শুরু করে। বর্তমানে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করা মারুর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ গড়ে তোলে সে।

মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করে সামার নিজের মধ্যেই এই সত্য লুকিয়ে রাখে। সময়ের সঙ্গে মারু তার বন্ধু ও পথপ্রদর্শকে পরিণত হন। বাবার অতীত এবং নিজের আবেগকে বুঝতে মারু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রেম, স্মৃতি ও বেড়ে ওঠার গল্প

চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি হলো দুই প্রজন্মের ভালোবাসার গল্পকে সমান্তরালে তুলে ধরা। সামার ও ইয়ন-উর সম্পর্ক যেমন ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তেমনি অতীতের স্মৃতিতে উঠে আসে সামারের বাবা ও মারুর সম্পর্কের গল্প।

Summer's Camera

সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও নির্মাতা এটিকে কোনো বিতর্ক বা সংঘাতের দিকে নিয়ে যাননি। বরং গল্পটি ব্যক্তিগত অনুভূতি, স্মৃতি এবং আত্ম-অন্বেষণের পথে এগিয়েছে। ফলে চলচ্চিত্রটি হয়ে উঠেছে কোমল, মানবিক এবং আশাবাদী।

অভিনয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

সামার চরিত্রে কিম সি-আর অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। প্রথম প্রেমের সরল অনুভূতি, বিভ্রান্তি এবং মানসিক পরিবর্তনকে তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ইয়ন-উ চরিত্রে ইউ গা-ইনের উপস্থিতিও গল্পে প্রাণ এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে মারু চরিত্রে কওয়াক মিন-গ্যু চলচ্চিত্রটিতে আবেগের গভীরতা যোগ করেছেন। তার সংযত অভিনয় সামারের মানসিক যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

মুক্তির আগেই ‘সামার্স ক্যামেরা’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি এটি বিশ্বের ৩৪টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আগামী ২৪ জুন চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।