০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শেষ, ৬০ দিনের সমঝোতার রোডম্যাপ ঘোষণা

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এগোনোর জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে।

সোমবার শেষ হওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল বেশ টানটান। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

আলোচনা চলবে কারিগরি পর্যায়ে

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনায় শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং লেবাননের সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুই পক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্য একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য একটি কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Vessels at the Strait of Hormuz, as seen from Musandam, Oman, June 18 / Reuters-Yonhap

ইরানের দাবি ও প্রত্যাশা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, আলোচনায় তেহরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে ছাড়, বিদেশে আটকে থাকা কিছু সম্পদ মুক্ত করার উদ্যোগ এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়।

তবে ইরানের অবস্থান ছিল, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরুর আগে পূর্ববর্তী সমঝোতার বিভিন্ন অংশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে প্রণালিটি খোলা রাখা জরুরি। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধকে আমরা ভয় পাই না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লেবানন পরিস্থিতিও আলোচনায়

লেবাননে সংঘর্ষ কমানোর প্রশ্নটিও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও সেখানে এখনও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতা কমানোর ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সতর্ক আশাবাদ

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। তবু দীর্ঘ সময় পর সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে সমঝোতার রোডম্যাপ তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এখন নজর থাকবে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার দিকে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাস্তব অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শেষ, ৬০ দিনের সমঝোতার রোডম্যাপ ঘোষণা

০১:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এগোনোর জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে।

সোমবার শেষ হওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল বেশ টানটান। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

আলোচনা চলবে কারিগরি পর্যায়ে

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনায় শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং লেবাননের সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুই পক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্য একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য একটি কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Vessels at the Strait of Hormuz, as seen from Musandam, Oman, June 18 / Reuters-Yonhap

ইরানের দাবি ও প্রত্যাশা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, আলোচনায় তেহরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে ছাড়, বিদেশে আটকে থাকা কিছু সম্পদ মুক্ত করার উদ্যোগ এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়।

তবে ইরানের অবস্থান ছিল, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরুর আগে পূর্ববর্তী সমঝোতার বিভিন্ন অংশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে প্রণালিটি খোলা রাখা জরুরি। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধকে আমরা ভয় পাই না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লেবানন পরিস্থিতিও আলোচনায়

লেবাননে সংঘর্ষ কমানোর প্রশ্নটিও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও সেখানে এখনও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতা কমানোর ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সতর্ক আশাবাদ

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। তবু দীর্ঘ সময় পর সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে সমঝোতার রোডম্যাপ তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এখন নজর থাকবে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার দিকে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাস্তব অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।