দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ব্যস্ত অফিসপাড়াগুলোতে মধ্যাহ্ন বিরতির চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় দুপুরের খাবারের জন্য রেস্তোরাঁয় ভিড় করা ছিল কর্মজীবীদের নিয়মিত অভ্যাস। এখন সেই জায়গা দখল করছে ‘স্লিপ ক্যাফে’ বা ঘুমের ক্যাফে। অনেক কর্মীই দুপুরের বিরতিকে খাবারের সময়ের চেয়ে শরীর ও মনের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশেষ করে গ্যাংনাম, গওয়াংহওয়ামুন ও ইয়োয়িদোর মতো ব্যবসাকেন্দ্রিক এলাকায় এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কর্মীরা দ্রুত খাবার শেষ করে কয়েক মিনিটের জন্য ঘুম বা বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছুটছেন বিশেষায়িত বিশ্রামকেন্দ্রে।
কাজের চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি
অফিসকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বাইরে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়ার চেয়ে কিছু সময়ের বিশ্রাম তাদের বেশি উপকার দিচ্ছে। ব্যস্ত কর্মদিবসের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম শরীরকে সতেজ করার পাশাপাশি মানসিক চাপও কমিয়ে দেয়।

অনেকের মতে, দুপুরের বিরতিও অনেক সময় কাজেরই অংশ হয়ে ওঠে। সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলতে থাকে। ফলে একান্ত ব্যক্তিগত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্লিপ ক্যাফে সেই সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য কর্মক্ষেত্রের চাপ ও সামাজিক যোগাযোগ থেকে দূরে থাকতে পারছেন।
স্লিপ ক্যাফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে
সিউলের বিভিন্ন এলাকায় এখন এমন অসংখ্য স্লিপ ক্যাফে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে আরামদায়ক ম্যাসাজ চেয়ার, ছোট ব্যক্তিগত কক্ষ এবং নিরিবিলি পরিবেশ। কেউ চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের জন্যও জায়গা বুক করতে পারেন। স্বল্প সময়ের ঘুম বা বিশ্রামের জন্য এ ধরনের সেবা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
শুধু অফিসকর্মী নয়, পর্যটকরাও এসব স্থানের সুবিধা নিচ্ছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যাত্রীদের জন্য বিশেষ বিশ্রাম অঞ্চল চালু রয়েছে, যেখানে তারা বিনামূল্যে কিছু সময় ঘুমিয়ে নিতে পারেন।
বিশ্রামকেন্দ্রিক অর্থনীতির উত্থান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সমাজে ভালো ঘুমকে এখন স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে বিশ্রাম ও সুস্থতাকেন্দ্রিক ব্যবসার বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এই খাতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং শহুরে জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠছে ছোট বিশ্রামকক্ষ ও ঘুমের সুবিধাসমৃদ্ধ কেন্দ্রগুলো। কর্মীরা শুধু দুপুরের বিরতিতেই নয়, অতিরিক্ত কাজের পরও এসব স্থানে গিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
ঘুমের সংকটে কোরিয়ার মানুষ
স্লিপ ক্যাফের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আরেকটি বাস্তবতা। কোরিয়ার মানুষ আগের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে দৈনিক গড় ঘুমের সময় কমে এসেছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অনিদ্রা সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন না বা দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুমিয়ে পড়তে ব্যর্থ হন। ফলে দিনের বেলায় বিশ্রামের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনে ঘুম ও বিশ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে স্লিপ ক্যাফের মতো সেবাও আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















