০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর হাইলাইট: ২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে কী প্রতিদান দেন শিক্ষার্থীরা, চালকের প্রশ্ন শুধু অর্থনীতি নয়, ভারত-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সভ্যতার বন্ধন গৃহকর্মীর জীবন কি এতটাই সস্তা? মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি, সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও বিনিয়োগে নতুন অগ্রগতি দুই দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে যোগ হলো ৪,৪৩২ টাকা গাজীপুরে জলাবদ্ধতার মধ্যে খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল তরুণীর মোহাম্মদ সালাহর ইতিহাস গড়া রাত, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নতুন উচ্চতায় মিসর বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মাতোয়ারা বিশ্ব, গাছের ডাল থেকে সুইমিং পুল—সবখানেই ফুটবলের উৎসব কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত মাদকবিরোধী প্রতিবাদকারী

সিউলের ইতিহাস জানার নতুন সুযোগ, হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে দেখা যাবে নগরীর অতীত

আধুনিক অট্টালিকা আর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে শহরের জুং জেলা প্রশাসন। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষকে আরও কাছাকাছি আনতে এবার চালু করা হয়েছে ১১টি বিশেষ হাঁটা ভ্রমণ কর্মসূচি, যা চলবে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত।

গত বছরের পরীক্ষামূলক আয়োজন ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এবার আরও বিস্তৃত আকারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর হাজারো মানুষ এসব ভ্রমণে অংশ নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্তুষ্টির হার ছিল অত্যন্ত উচ্চ। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন কিছু পথ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করা হয়েছে।

বীর নৌসেনাপতির শৈশবের পথে

এ বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন হলো কোরিয়ার কিংবদন্তি নৌসেনাপতি ই সুন-সিনকে ঘিরে তৈরি বিশেষ পথচলা। প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার নানা গল্প।

Seoul unveiled: Exploring vibrant heart of South Korea | Daily Sabah

প্রায় ৯০ মিনিটের এই ভ্রমণ শুরু হবে একটি পাতালরেল স্টেশন এলাকা থেকে। এরপর অংশগ্রহণকারীরা নৌসেনাপতির জন্মস্থান স্মৃতিচিহ্ন, ঐতিহ্যবাহী বাজার এবং ঐতিহাসিক সামরিক স্থাপনার অবস্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।

ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও খাবারের মিলন

ফিরে এসেছে জনপ্রিয় আরেকটি ভ্রমণপথ, যেখানে ইতিহাসের পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় খাবার ও স্থাপত্যের স্বাদ। এই রুটে হাঁটার সময় দেখা যাবে পুরোনো নগরদ্বার, আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এবং বিখ্যাত খাবারের গলি।

পথে পথে গাইডরা তুলে ধরবেন এলাকার অজানা গল্প ও বিশেষ স্থানগুলোর ইতিহাস। আধুনিক ধাঁচের ক্যাফে থেকে শুরু করে কয়েক দশকের পুরোনো খাবারের দোকান—সবই থাকবে এই অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে।

রাতের সিউল দেখার সুযোগ

সিউলের রাতের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য জনপ্রিয় রাতের ভ্রমণগুলোর সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আলোকসজ্জায় ঝলমলে প্রাসাদের দেয়াল, ঐতিহাসিক সড়ক এবং শহরের রাতের দৃশ্য উপভোগ করতে এখন সপ্তাহে তিন দিন এসব আয়োজন চলবে।

Medieval-era palace in heart of Seoul is a historical, cultural treasure | Stars and Stripes

বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র গরমের সময় দিনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। সে সময় রাতের ভ্রমণগুলোই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

ইতিহাসের খোঁজে হাঁটা

জুং জেলার এই উদ্যোগ শুধু পর্যটন নয়, বরং নগর ইতিহাসকে মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। হাঁটতে হাঁটতে শহরের অতীতকে জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটক—উভয়ের কাছেই এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সিউলের বহুস্তরীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর পরিবর্তনের গল্প জানতে আগ্রহীদের জন্য এই ভ্রমণগুলো হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: চলতি অর্থবছরের রাজস্বঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, জানাল এনবিআর

সিউলের ইতিহাস জানার নতুন সুযোগ, হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে দেখা যাবে নগরীর অতীত

০১:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আধুনিক অট্টালিকা আর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে শহরের জুং জেলা প্রশাসন। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষকে আরও কাছাকাছি আনতে এবার চালু করা হয়েছে ১১টি বিশেষ হাঁটা ভ্রমণ কর্মসূচি, যা চলবে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত।

গত বছরের পরীক্ষামূলক আয়োজন ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এবার আরও বিস্তৃত আকারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর হাজারো মানুষ এসব ভ্রমণে অংশ নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্তুষ্টির হার ছিল অত্যন্ত উচ্চ। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন কিছু পথ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করা হয়েছে।

বীর নৌসেনাপতির শৈশবের পথে

এ বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন হলো কোরিয়ার কিংবদন্তি নৌসেনাপতি ই সুন-সিনকে ঘিরে তৈরি বিশেষ পথচলা। প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার নানা গল্প।

Seoul unveiled: Exploring vibrant heart of South Korea | Daily Sabah

প্রায় ৯০ মিনিটের এই ভ্রমণ শুরু হবে একটি পাতালরেল স্টেশন এলাকা থেকে। এরপর অংশগ্রহণকারীরা নৌসেনাপতির জন্মস্থান স্মৃতিচিহ্ন, ঐতিহ্যবাহী বাজার এবং ঐতিহাসিক সামরিক স্থাপনার অবস্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।

ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও খাবারের মিলন

ফিরে এসেছে জনপ্রিয় আরেকটি ভ্রমণপথ, যেখানে ইতিহাসের পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় খাবার ও স্থাপত্যের স্বাদ। এই রুটে হাঁটার সময় দেখা যাবে পুরোনো নগরদ্বার, আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এবং বিখ্যাত খাবারের গলি।

পথে পথে গাইডরা তুলে ধরবেন এলাকার অজানা গল্প ও বিশেষ স্থানগুলোর ইতিহাস। আধুনিক ধাঁচের ক্যাফে থেকে শুরু করে কয়েক দশকের পুরোনো খাবারের দোকান—সবই থাকবে এই অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে।

রাতের সিউল দেখার সুযোগ

সিউলের রাতের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য জনপ্রিয় রাতের ভ্রমণগুলোর সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আলোকসজ্জায় ঝলমলে প্রাসাদের দেয়াল, ঐতিহাসিক সড়ক এবং শহরের রাতের দৃশ্য উপভোগ করতে এখন সপ্তাহে তিন দিন এসব আয়োজন চলবে।

Medieval-era palace in heart of Seoul is a historical, cultural treasure | Stars and Stripes

বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র গরমের সময় দিনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। সে সময় রাতের ভ্রমণগুলোই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

ইতিহাসের খোঁজে হাঁটা

জুং জেলার এই উদ্যোগ শুধু পর্যটন নয়, বরং নগর ইতিহাসকে মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। হাঁটতে হাঁটতে শহরের অতীতকে জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটক—উভয়ের কাছেই এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সিউলের বহুস্তরীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর পরিবর্তনের গল্প জানতে আগ্রহীদের জন্য এই ভ্রমণগুলো হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।