ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের উত্তরাধিকার আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি মিসরকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। একই সঙ্গে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সালাহ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৮তম গোলটি করেন। এর ফলে তিনি মিসরের বর্তমান কোচ হোসাম হাসানের সর্বোচ্চ ৬৯ গোলের জাতীয় রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে অবস্থান করছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে এটি ছিল সালাহর তৃতীয় গোল, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা মিসরীয় ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইতিহাস গড়া জয়
ম্যাচটি মিসরের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি বিশ্বকাপে মিসরের প্রথম জয়। অধিনায়ক হিসেবে সেই ইতিহাসের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত সালাহ।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, মিসরীয়দের জন্য এই অর্জন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিশ্বজুড়ে অনেক দল নিয়মিত বিশ্বকাপ ম্যাচ জেতে, কিন্তু মিসরের জন্য এমন ঘটনা খুবই বিরল। তাই এই জয় তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

প্রথমার্ধে ধীরগতির শুরু
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সালাহর জন্য খুব স্বস্তিদায়ক ছিল না। সরাসরি একটি ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। তবে সময়ের সঙ্গে ম্যাচে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেন তিনি।
৬৭তম মিনিটে মোস্তাফা জিকোর পাস থেকে সালাহ গোল করে মিসরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বলটি এক ডিফেন্ডারের নিচ দিয়ে গড়িয়ে গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকোম্বকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
এরপর ৮২তম মিনিটে দলের তৃতীয় গোলেও অবদান রাখেন সালাহ। সতীর্থকে দারুণ একটি পাস দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। ম্যাচে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। এর আগে টুর্নামেন্টে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচেও মিসরের একমাত্র গোলের পেছনে ছিল তার অবদান।
প্রশংসায় প্রতিপক্ষও
সালাহর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডও। তিনি বলেন, সালাহ এমন একজন খেলোয়াড় যাকে সব সময় নজরে রাখতে হয়। কারণ তিনি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত ছিলেন সালাহ। ১০ ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি মিসরকে বিশ্বকাপে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে আফ্রিকান বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন।
সামনে আরও বড় মাইলফলক
লিভারপুলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় বছরের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সালাহর পরবর্তী গন্তব্য এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স দেখে আগ্রহী ক্লাবের অভাব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
মিসরের কোচ হোসাম হাসানও বিশ্বাস করেন, সালাহর সেরাটা এখনও দেখা বাকি। তার ভাষায়, সালাহ মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং টুর্নামেন্টে তার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পাওয়ার আশা রয়েছে।
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া এই জয় এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ সালাহ আবারও প্রমাণ করলেন, ক্লাব ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা তার আন্তর্জাতিক মঞ্চের উজ্জ্বলতা একটুও কমাতে পারেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















